কলাপাড়ায় দুর্যোগকবলিত মানুষের ভরসা “মুজিব কিল্লা”

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত মে ২২ শনিবার, ২০২১, ১২:১১ অপরাহ্ণ
কলাপাড়ায় দুর্যোগকবলিত মানুষের ভরসা “মুজিব কিল্লা”

কলাপাড়া প্রতিনিধি ।। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দুর্যোগকবলিত মানুষ, তাদের পরিবার ও গৃহপালিত প্রাণীর জীবন রক্ষা এবং মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য নির্মিত হয়েছে দুটি মুজিব কিল্লা।

 

কিল্লা দুটি রোববার (২৩ মে) উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

এ উদ্বোধনকে ঘিরে এলাকায় বইছে আনন্দের জোয়ার।

 

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ দুর্যোগকালীন উপকূলীয় এলাকার মানুষের দুশ্চিন্তা দূর করবে মুজিব কিল্লা। এতে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় আরেক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। এমনটাই বলছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়।

 

সূত্রে জানা গেছে, আগামী রোববার (২৩ মে) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নের নেওয়াপাড়া গ্রামে ২ কোটি ১ লাখ ৮৩ হাজার ১৭৭ টাকা ও টিয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব টিয়াখালী গ্রামে ২ কোটি ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৪ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি মুজিব কিল্লার উদ্বোধন করবেন।

 

এ ছাড়া ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন ২ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯২৮ টাকা ব্যয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের তাহেরপুর এবং ১ কোটি ৯৫ লাখ ৮ হাজার ৯৯৬ টাকা ব্যয়ে গৈয়াতলা গ্রামের দুটি মুজিব কিল্লা নির্মাণ প্রকল্পের, ১ কোটি ৯৭ লাখ ৯১ হাজার ৭৩২ টাকা ব্যয়ে মহিপুর ইউনিয়নের সেরাজপুর, ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭৮ টাকা ব্যয়ে বালিয়াতলি ইউনিয়নের ছোট বালিয়াতলি এবং ১ কোটি ৯১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৯২ টাকা ব্যয়ে টিয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব বাদুরতলি গ্রামে মোট ৫টি মুজিব কিল্লা নির্মাণ প্রকল্পের।

 

নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া এবং নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন এসব কিল্লা ৮ হাজার বর্গমিটার আয়তনের। সাধারণ কৃষি জমির চেয়ে প্রায় ১১ ফুট উঁচুতে পুরোনো মাটির এ কিল্লার ওপর নির্মিত ভবনের প্রথম ফ্লোরে ও ছাদে ৫০০ পরিবারের মানুষ একত্রে আশ্রয় নিতে পারবে। গবাদিপশুর জন্য ৫৫৮ বর্গমিটারের শেড রয়েছে। থাকছে বাথরুম সুবিধাসহ সুপেয় পানির ব্যবস্থা।

 

এ ছাড়া ভবনে থাকছে বিদ্যুৎ ও সোলার সিস্টেম সুবিধা। এতে স্বাভাবিক সময়ে এসব কিল্লায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, খেলার মাঠ ও হাট বাজার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

 

কলাপাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে প্রকল্পের নির্দেশনা অনুসারে গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে নির্মাণে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করে আসছি।

 

 

নির্মাণ কাজ তদারকির জন্য একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আমরা এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে পারব বলে আশা করছি।

 

 

প্রসঙ্গত, সরকারি ১৯৫৭.৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর দেশের ঘূর্ণিঝড়প্রবণ ১৬ জেলার ৬৪ উপজেলায় এবং বন্যাপ্রবণ ও নদী ভাঙনকবলিত ২২ জেলার ৮৪ উপজেলায় মোট ৫৫০টি মুজিব কিল্লা নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। জুলাই ২০১৮ থেকে ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত যার বাস্তবায়ন কাল নির্ধারণ করা হয়েছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]