স্বরূপকাঠিতে শীতের কম্বল পড়ে আছে গোডাউনে, গরিবের চাল খাচ্ছে ইঁদুরে

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত মে ২৩ রবিবার, ২০২১, ০৬:৩৪ অপরাহ্ণ
স্বরূপকাঠিতে শীতের কম্বল পড়ে আছে গোডাউনে, গরিবের চাল খাচ্ছে ইঁদুরে

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির বলদিয়া ইউনিয়নে শীতের ত্রাণের কম্বল আজও বিতরণ করা হয়নি। দুই বছর ধরে পরিষদের গোডাউনে পড়ে থাকা বিজিডি, ভিজিএফের চাল খাচ্ছে ইঁদুর আর পোকা।

অকার্যকরভাবে পড়ে রয়েছে জাইকা প্রকল্প থেকে দেওয়া মিনি অ্যাম্বুলেন্স। ইউনিয়নের আটজন সদস্যের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে পরিষদের আদালত নামের কক্ষে ও গোডাউনে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

রমজানের ঈদের জন্য বরাদ্দ করা টাকা ঈদের পর বিতরণ করা হয়েছে। দায় এড়াতে এই গরমে কম্বল বিতরণের চেষ্টা করতেও দেখা যায়। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারণে সেটা বন্ধ হয়ে যায়।

ওই ইউনিয়নের সদস্য আমিনুল ইসলাম, বাবুল মিয়া, আব্দুর রহিম, জাহারুল ইসলাম, শুকলাল ঢালী,

ফারুখ হোসেন, মো. আলাউদ্দিন ও মো. সোহেল পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ একজন সন্ত্রাসী, রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী লোক।

২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় পেট্রলবোমাসহ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। সেই ঘটনায় তাকে ১ নম্বর আসামি করে ২৬ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা রুজু করা হয়।

গত ১০/০২/২০২১ তারিখে ওই মামলায় ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হয়েছে। চেয়ারম্যান শাহীন আহম্মেদ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার লক্ষ্যে কম্বল ও চাল বিতরণ না করে গোডাউনে ফেলে রেখেছেন।

বিতরণ কাজে সদস্যদের দেওয়া তালিকার কোনো গুরুত্ব না দিয়ে নিজের ইচ্ছামাফিক সকল প্রকার সরকারি সাহায্য তার নিজস্ব লোক দিয়ে বিতরণ করেন।

আম্ফানের বন্যার সময়ের জিআর প্রকল্পের ৪০০ কেজি চাল গোডাউন থেকে তোলা হয়নি আজও। জেলেদের চাল আড়াই মাস পরে বণ্টন করা হচ্ছে।

ওই ইউপি সদস্যরা আরো অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান এলাকায়ই থাকেন না। তার অনুপস্থিতির কারণে এলাকার জনগণের ভোগান্তির অন্ত নেই। উপজেলা পরিষদের রেজুলেশন দেখলে দেখা যাবে তিনি কতটি সভায় উপস্থিত হয়েছেন।

 

তিনি সদস্যদের সাথে আলোচনা না করেই সব সিদ্ধান্ত একাই নেন। তারা বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের বরাবরে দরখাস্ত দিয়েছি। এখবর পেয়ে কোনো প্রকার তালিকা ছাড়াই কম্বল বিতরণের জন্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এসময় চেয়ারম্যান উপস্থিত না থাকায় সদস্যদের উপস্থিতিতে ইউপি সচিব চাঁদ নারায়ণ চক্রবর্তীর সাথে কথা বলে বিষয়টি জানার চেষ্টা করলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব যেভাবে নির্দেশ করবেন সেভাবেই কাজ করতে হয়।

তিনি বেশির ভাগ সময় এলাকায় থাকেন না। সদস্যদের সাথে সমন্বয়ের অভাব থাকায় কম্বল ও চাল বিতরণ করা হয়নি। তিনি জানান, ৪ মাস পূর্বে উপজেলা পরিষদ থেকে ৮০ পিস কম্বল দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু কম্বল বিতরণে চেয়ারম্যানের নির্দেশ না পাওয়ায় এতদিন বিতরণ করা হয়নি। এখন চেয়ারম্যান এলাকার জেলেদেও মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

এসব বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহম্মেদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আমি কম্বলগুলে তালিকা করে বিতরণ করতে বলেছি। বিতরণ করার পর অনেকে চাল নিতে আসে না।

সে চালগুলো রয়ে গেছে। চালগুলো ইঁদুর আর পোকার খাদ্যে পরিণত হয়েছে এমন প্রশ্নে উত্তর এড়িয়ে গিয়ে তিনি জানান, জিআর প্রকল্পের চাল সমন্বয়হীনতার অভাবে উত্তোলন করা হয়নি। গরিব মানুষকে বাদ দিয়ে গরিবদের মাঝে চাল বিতরণের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, বলদিয়ায় আমিসহ সকলেই গরিব।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মানস কুমার দাসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ত্রাণের মালামাল তাৎক্ষণিকভাবে বিতরণ করতে হবে। না করে থাকলে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোশারেফ হোসেন বলেন, টাকা বিতরণের বিষয়েও ওই ইউনিয়নে কালক্ষেপণ করে অনেক কাহিনি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কঠোর নির্দেশে বিতরণে বাধ্য হয়েছেন। অনিয়ম পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]