নেদারল্যান্ডসে ধাপে ধাপে উচ্চশিক্ষা

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ৯ শুক্রবার, ২০২১, ১২:৫৪ অপরাহ্ণ
নেদারল্যান্ডসে ধাপে ধাপে উচ্চশিক্ষা

অনলাইন ডেস্ক ।। ইউরোপের উত্তর–পশ্চিম অঞ্চলের বেশ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ নেদারল্যান্ডস। এটি ইউরোপের সেঞ্জেনভুক্ত একটি দেশ, যা হল্যান্ড নামেও পরিচিত। জাতীয় ভাষা ডাচ হলেও এখানে ইংরেজি, ফ্রিশিয়ান ও পাপিয়ামেন্টু ভাষাও প্রচলিত রয়েছে।

 

দেশটিতে উন্নত জীবন ধারণ ও শিক্ষা অর্জনের জন্য বিশ্বের তৃতীয় সেরা দেশ হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আবহাওয়া, পরিবেশ, শিক্ষাব্যবস্থা, খরচ সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে দেশটি বেশ জনপ্রিয়ও বটে।

 

ডাচ শিক্ষাব্যবস্থা খুবই উন্নত ও গবেষণাকেন্দ্রিক। বিদ্যমান কোর্সগুলো থেকে সহজেই শিক্ষার্থীরা বেছে নিতে পারেন পছন্দের বিষয়গুলো। দেশটির বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলো বিশ্ব র্যাংঙ্কিংয়ে বেশ এগিয়ে। এখানে ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি ও বিভিন্ন শর্ট কোর্স অফার করে থাকে।

 

ব্যাচেলর কোর্স (৩-৪ বছর মেয়াদী), মাস্টার্স কোর্স (১-২ বছর মেয়াদী), পিএইচডি/ডক্টোরাল কোর্সগুলো ৩-৫ বছর মেয়াদী হয়ে থাকে। বেশিরভাগ কোর্সে ডাচ ভাষায় পড়ানো হলেও ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও ডক্টোরাল প্রোগ্রামগুলোতে ইংরেজি মাধ্যমেও পড়ানো হয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বছরে দুটি সেশনে আবেদন করা যায়। শীতকালীন সেশনে আবেদনের সময় সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর/জানুয়ারী ও গ্রীষ্মকালীন আবেদনের সময় ফেব্রুয়ারি-জুলাই/আগস্ট পর্যন্ত।

 

দেশটির কিছু বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে-

Delft University of Technology, University of Amsterdam, Eindhoven University of Technology, Utrecht University, Leiden University

 

ব্যাচেলরের জন্য আবেদন

ভাষা প্রয়োজনীয়তা: শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে ভালো করে পড়া, লেখা, শোনা ও বলার যথেষ্ট যোগ্যতা থাকতে হবে। সেজন্য আপনাকে অবশ্যই ইংরেজি ভাষা পরীক্ষায় পাস করতে হবে। আইইএলটিএসের জন্য কমপক্ষে স্কোর ৬ প্রয়োজন।

 

প্রস্তুতিমূলক বা ফাউন্ডেশন কোর্স: কখনো কখনো শিক্ষার্থীরা পছন্দের প্রোগ্রামের জন্য যোগ্য নাও হতে পারেন। তাই প্রয়োজন একটু অতিরিক্ত প্রস্তুতি। সেক্ষেত্রে ডাচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়তো শিক্ষার্থীদের কিছু শর্ত দিয়ে চিঠি প্রদান করতে পারে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তখন কোর্সের প্রস্তুতিমূলক বিষয় অনুসরণ করতে ও নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণে জন্য প্রাথমিকভাবে এক বছরের ভিসা প্রদান করে থাকে। পরীক্ষায় পাস করার পরে শর্তসাপেক্ষ অফার লেটার একটি কোর্সের মূল অফার লেটারে রূপান্তরিত হয়। বলা যায়, ডাচ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ ভর্তি হওয়ার আগে ‘একটি প্রস্তুতিমূলক বছর’ কোর্সের সুযোগ দেয়।

 

টিউশন ফি: ব্যাচেলর স্টাডির জন্য টিউশন ফি বছরে ৬০০০ থেকে ১৫০০০ ইউরো লাগতে পারে। তাই ভালো হয় স্কলারশিপ নিয়ে পড়া। কারণ, তা না হলে চার বছরের ব্যাচেলর শেষ করা ও নিজের খরচ চালানো খুব কঠিন হবে। ব্যাচেলরে অধ্যয়নের জন্য কিছু বৃত্তির সুযোগ রয়েছে।

আইইএলটিএস এ ৬.০ থাকলে মূল কোর্সে (ফাউন্ডেশন কোর্স ছাড়াই) কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন। আইইএলটিএস এ ৫.০ থাকলে ১২ মাসের ফাউন্ডেশন কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন। আইইএলটিএস এ ৫.৫ থাকলে ৬ মাসের ফাউন্ডেশন কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন।

 

মাস্টার্স বা প্রি-মাস্টার্সের জন্য আবেদন

অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন আবেদন পদ্ধতি অনুসরণ করে। মাস্টার্সে আবেদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টগুলো হলো ব্যাচেলর ফলাফল, সিভি, আইইএলটিএস স্কোর (সর্বনিম্ন ৬.৫), জিএমএট স্কোর (বিষয়ের উপর নির্ভর করে), প্রেরণাপত্র (মোটিভেশন লেটার), সুপারিশপত্র (রিকমেন্ডেশন লেটার), ব্যাচেলর থিসিস বা ইন্টার্নশিপ রিপোর্ট। এই কাগজপত্রগুলো পর্যালোচনা করার পরে যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মনে হয় যে, শিক্ষার্থীর মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়াশোনা করার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা রয়েছে, তবে সরাসরি তারা এই প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারবেন। আর যদি কিছুটা ঘাটতি থাকে তাহলে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ১ বছর বা ৬ মাসের প্রি-মাস্টার্স কোর্স করানোর প্রয়োজনীয়তা মনে করতে পারে ও সেটার জন্য অফার করতে পারে। একটি প্রি-মাস্টার্স প্রোগ্রাম সফলভাবে সমাপ্ত করার পরে পছন্দসই মাস্টার্স প্রোগ্রামে সরাসরি ভর্তি হতে পারবেন।

 

রিসার্চ মাস্টার্সের জন্য আবেদন

একটি গবেষণা মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য একই অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজ অনুসরণ করতে হয়। প্রোগ্রামটি অধ্যয়ন করার সুবিধা হলো যে, শিক্ষার্থীর পিএইচডি প্রার্থী হিসাবে আবেদনের জন্য অনেক সুযোগ উন্মুক্ত হয়। এটি বেশ বৈজ্ঞানিক গবেষণা ভিত্তিক হয়ে থাকে। প্রোগ্রামটি শেষ হতে সাধারণত দুই বছর সময় নেয়। তবে, রিসার্চ মাস্টার্স শেষ করার পরে পিএইচডি সম্পূর্ণ করতে তিন বছর সময় লাগে।

এই প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া বেশ প্রতিযোগিতামূলক। বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে প্রার্থীকে প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হয় এবং কমপক্ষে বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করে কিছু নিবন্ধ লেখা থাকতে হয়। হল্যান্ডের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ মাস্টার্স বা রিসার্চ এসিস্টেনশিপের প্রচুর ফুল স্কলারশিপের সুযোগ রয়েছে।

 

পোস্ট ডক্টরেটের জন্য আবেদন

হল্যান্ডে ডক্টরেট শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচুর সুবিধা রয়েছে। দেশটিতে একজন পিএইচডি প্রার্থী বেতনভুক্ত কর্মী হিসেবে একটি ওয়ার্ক পারমিট পায়। যেখানে তার বেতন প্রতি মাসে ১৫০০ – ২০০০ ইউরো হয়ে থাকে। যেহেতু শিক্ষার্থীকে কোনো টিউশন ফি প্রদান করতে হয় না, তাই এটি দিয়ে নিজের জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করা সহজ। হল্যান্ডে, একজন পিএইচডি শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক (প্রভাষক) হিসেবে কাজ করতে হবে, ফলে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন হওয়ার পরে একজন লেকচারার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ারও একটি সুযোগ রয়েছে।

 

টিউশন ফি ও স্কলারশিপ

মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য টিউশন ফি বছরে ৮,০০০ – ২০,০০০ ইউরো। হল্যান্ডে নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্কলারশিপ রয়েছে যেগুলি তারা স্নাতক পর্যায়ে ভালো ফলাফল ও GMAT স্কোরের উপর ভিত্তি করে প্রদান করে। পাশাপাশি ইরাসমাস ও নফিক স্কলারশিপের মতো ডাচ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত কিছু স্কলারশিপ রয়েছে।

 

রেসিডেন্স ভিসা ও বসবাসের খরচ

মজার ব্যাপার হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই শিক্ষার্থীর হয়ে রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত নির্দেশনাবলী অনুসরণ করতে হয়। তবে হল্যান্ডে বসবাস করতে এক বছরে বেশি খরচ হয় না। একজন শিক্ষার্থীর শেয়ার ফ্ল্যাটে প্রতি মাসে ভাড়া ২৬০– ৩৫০ ইউরো খরচ হয়। যদি নিজে বাড়িতে রান্না করতে পারে তাহলে শিক্ষার্থীর মাসে খাবার বাবদ ৩০০ ইউরোর চেয়ে বেশি খরচ হবে না। তবে শিক্ষার্থীদের একটি স্বাস্থ্য বীমা করতে হয়, যার পরিমাণ বছরে প্রায় ৪৮০ ইউরোর মতো।

 

পড়ালেখা চলাকালীন কাজের সুবিধা

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে একেকজন সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা কাজের অনুমতি পেয়ে থাকেন। হল্যান্ডে পার্ট-টাইম চাকরি পাওয়া বেশ কঠিন। অধিকাংশ কাজ রেস্টুরেন্ট ভিত্তিক, তাছাড়া ভাষাগত তারতম্য একটি সমস্যা। ডাচ ভাষা জানা থাকলে বেশ ভালো। প্রবাসে যে কোনো কাজের জন্য শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতি থাকতে হয়। এখানে কাজ করে পড়ালেখাসহ নিজের খরচ বহন করা সম্ভব নয়। এছাড়া যদি খরচ বহন করে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করতে না পারেন, তাহলে শিক্ষার্থীর রেসিডেন্স পারমিট হারানোরও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

 

পড়ালেখা শেষে কাজের সুবিধা

পড়ালেখা শেষে চাকরি খোঁজার জন্য দেশটি আপনাকে এক বছরের ভিসা দেবে। যদি আপনি আইটি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে পড়ে থাকেন, তাহলে আপনাকে ডাচ ভাষা জানতে হবে না। দেশটিতে আইটি সেক্টরে বেশ চাহিদা রয়েছে। যারা অন্যান্য বিষয় অধ্যয়ন করছেন, তাদের জন্য ভাষা জানা না থাকলে কাজ খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে পড়ালেখা করা অবস্থায় ভালো নেটওয়ার্ক তৈরি করা, বিভিন্ন এক্সট্রা কারিকুলার কাজে যোগদান করা, হল্যান্ডের সংস্কৃতি ও লোকদের সম্পর্কে ভালো ধারণা নেওয়া।

 

স্থায়ী বসবাস সংক্রান্ত তথ্য

কেউ পাঁচ বছর বৈধভাবে নেদারল্যান্ডসে থাকার পর স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারে। একটানা ৬ মাস বা তার বেশি সময় নেদারল্যান্ডসের বাইরে থাকলে আবেদনকারীরা অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। তাছাড়া আট বছর থাকার পর যে কেউ ডাচ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের কোর্সের মেয়াদের অর্ধেক সময় থেকে গণনা করা হয়।

 

এ বিয়য়ে বিস্তারিত জানতে- https://ind.nl/en/permanent-residence/Pages/default.aspx
তাছাড়া নেদারল্যান্ডসের উচ্চশিক্ষা বিষয়ক পোর্টাল- https://www.studyinholland.nl




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]