কলাপাড়ায় জোয়ারের চাঁপে ৩০০ ফুট বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ বিধ্বস্ত

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত মে ২৫ মঙ্গলবার, ২০২১, ০৮:৩৫ অপরাহ্ণ
কলাপাড়ায় জোয়ারের চাঁপে ৩০০ ফুট বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ বিধ্বস্ত
এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়া।। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পূর্নিমা এবং ঘূর্নিঝড় ইয়াসের প্রভাবে মঙ্গলবার সকাল ৯ টার দিকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টিপাতের সাথে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে অনন্তঃ ১০ থেকে ১২ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধানখালী,চম্পাপুর ইউনিয়নের অন্ততঃ ৩০০ ফুট বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে ।
এতে ৮ টি গ্রামের অন্ততঃ দশ হাজার মানুষ অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন উপজেলার দু’টি পৌরসভা সহ ১২ টি ইউনিয়নে শুকনা খাবারের ব্যবস্থা সহ জনগনকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের নির্দেশ দিয়েছে।
পানির কারনে পৌরসভার মাছ বাজার, হ্যালিপ্যাড ও পৌরসভার ওয়াপদা বেড়িবাঁধের বাইরে অন্ততঃ দুই শতাধিক পরিবার তাদের ঘর-বাড়ী ছেড়ে উঁচু সড়কের উপর আশ্রয় নিয়েছে। দুপুরের দিকে পানি নেমে গেলেও নষ্ট হয়ে আসবাব পত্র সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
অপরদিকে, উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া ৫৪ নাম্বার এবং দেবপুর ৪৮ নাম্বার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ বিধ্বস্ত হওয়ায় ৮ টি গ্রামে অন্ততঃ পাঁচ হাজার গ্রামবাসী পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
এছাড়া চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর ও লালুয়া ইউনিয়রনে ৬ টি গ্রামে ভাঙ্গনকবলিত বেড়িবাঁধ থেকে পানি ঢুকে হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। এসব স্থানে উপজেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি কর্মীরা মানুষের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে।
এ ছাড়া কুয়াকাটা সংলগ্ন পি ম খাজুড়া গ্রামেও বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে অন্ততঃ শতাধিক পরিবার পানিতে পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
তাদের সহায়তায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এগিয়ে এসেছে। এছাড়া জোয়ারের চাঁপে কুয়াকাটা ঝাউ বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে ২০ টি ঝাউ গাছ  উপড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সুজন মোল্লা জানান, লোন্দা এলাকার আবাসনের ভিতরে পানি ঢুকে পড়েছে। ওই আবাসনের শত শত মানুষ অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
ধানখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.রিয়াজ তালুকদার জানান, এ ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে ধানখালী গ্রাম সহ লোন্দা,পাঁচজুািনয়া সহ চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রাম এখন পানিতে পানিতে থৈ থৈ করছে। এসব গ্রামের মানুষ আশে পাশের অপেক্ষাকৃত বড় বড় বাড়ী সহ সাইক্লোন সেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে ।
এদিকে, লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস জানান,লালুয়া ভাঙ্গন কবলিত এলাকা থেকে পুনরায় পানি ঢুকে আবারো শত শত পরিবার ক্ষতির সন্মুখীন হয়েছে।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাছের ঘেরে পানি ঢুকে ভেসে গেছে মাছ। এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি শিকার হয়েছে উপজেলার প্রায় অর্ধশত ঘের মালিকরা।
কলাপাড়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক জানান, ইতিমধ্যে উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন সহ দু’টি পৌরসভায় ২৫ হাজার টাকা দিয়ে আপাতত শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে, এমন এলাকার মানুষদের  নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

 




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]