বরগুনায় পাগলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়ে মূল আসামীদের রক্ষা করলো পুলিশ!

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ৯ শুক্রবার, ২০২১, ০৬:৫৩ অপরাহ্ণ
বরগুনায় পাগলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়ে মূল আসামীদের রক্ষা করলো পুলিশ!

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ মানসিক ভারসাম্যহীন আনোয়ার হোসাইনকে ফাঁসিয়ে মূল অপরাধী ইব্রাহিম মাতুব্বর ও নান্নু চৌকিদার রক্ষা পেয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

দ্রুত চার্জশিট বাতিল করে মূল আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রধান আসামিকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

মামলার বাদী মো. জহিরুল ইসলাম ফকির অভিযোগ করেন, মূল আসামি ইব্রাহিম মাতুব্বর ও নান্নু চৌকিদারকে মামলা থেকে রক্ষা করতেই পুলিশ একজন পাগলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে।

 

লিখিত বক্তব্যে সালেহা বেগম বলেন, উপজেলার টেপুরা গ্রামের জহিরুল ইসলাম ফকির ও ইব্রাহিম মাতুব্বরের মধ্যে এক একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনায় গত বছর ১৯ আগস্ট ইব্রাহিম মাতুব্বর মানসিক ভারসাম্যহীন আমার স্বামী আনোয়ার হোসাইনকে কুপরামর্শ দিয়ে তার প্রতিপক্ষ জহিরুল ইসলামকে ঘায়েল করতে তার পেছনে লেলিয়ে দেয়।

 

পাগল আনোয়ার ষড়যন্ত্রকারী ইব্রাহিম ও নান্নু চৌকিদারের ষড়যন্ত্র না বুঝে জহিরুল ইসলাম, নিরুজা বেগম, আফরোজা বেগম, শাহনাজ, রাসেলকে কুপিয়ে জখম করে।

 

এ ঘটনায় জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মো. আনোয়ার হোসাইন, তার স্ত্রী মোসা. সালেহা বেগম, পরিকল্পনাকারী মো. ইব্রাহিম মাতুব্বর ও নান্নু চৌকিদারকে আসামি করে আমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

ওই মামলায় মানসিক ভারসাম্যহীন আনোয়ার হোসাইন এবং তার স্ত্রী সালেহা বেগম জেলহাজতে যান। দীর্ঘ দুই মাস ৬ দিন জেলহাজতে থাকার পর সালেহা জামিনে আসেন। কিন্তু গত সাড়ে সাত মাস পেরিয়ে গেলেও তার স্বামীর জামিন হয়নি।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ গত বছর ৩০ নভেম্বর মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ইব্রাহিম মাতুব্বর ও চুন্নু চৌকিদারকে বাদ দিয়ে আমার স্বামী পাগল আনোয়ার এবং আমাকে ফাঁসিয়ে চার্জশিট দিয়েছে।

 

তার স্বামীর জামিন, চার্জশিট থেকে অব্যাহতি এবং মূল আসামি ইব্রাহিম ও নান্নু চৌকিদারকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্তির দাবি এনে  বৃহস্পতিবার আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়নে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মামলার আসামি ভারসাম্যহীন আনোয়ার হোসাইনের স্ত্রী সালেহা বেগম।

 

এ মামলার বাদী মো. জহিরুল ইসলাম ফকির বলেন, পাগল আনোয়ার হোসাইনের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। মামলার আসামি ইব্রাহিম মাতুব্বরের সঙ্গে আমার জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ইব্রাহিম ও নান্নু চৌকিদারের পরিকল্পনাতেই ওই পাগল আমার পরিবারের ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে।

 

তিনি আরও বলেন, পুলিশ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মূল আসামি ইব্রাহিম মাতুব্বর ও নান্নু চৌকিদারকে বাদ দিয়ে পাগলকে ফাঁসিয়ে চার্জশিট দিয়েছে। আমি আদালতে এ চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছি।

 

আমতলী থানার ওসি শাহ আলম হাওলাদার বলেন, যাচাই বাছাই শেষে মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]