ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: পটুয়াখালীতে জোয়ারের পানি ৫ থেকে ৬ ফুট বৃদ্ধি

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত মে ২৬ বুধবার, ২০২১, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ণ
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: পটুয়াখালীতে জোয়ারের পানি ৫ থেকে ৬ ফুট বৃদ্ধি

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমা জো’র প্রভাবে পটুয়াখালীর উপকূলে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ৬ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে কয়েক ঘণ্টা জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানির চাপে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে জেলার উপকূলীয় কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার ১৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে অর্ধশত চরসহ নিম্নাঞ্চল। এসব এলাকার পানিবন্দী মানুষজন এখন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।
কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস জানান, লালুয়া ইউনিয়নের বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম হাওলাদার জানান, ৭০’র পর পর ইতিপূর্বে কখনও এমন ভয়াবহ পানি হয়নি। পানির তোড়ে মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়নের চরলতা বেড়িবাঁধের ৭টি পয়েন্টের প্রায় ৪০০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এসব বেড়িবাঁধ দিয়ে এবং পূর্বের ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে প্রবল বেগে জোয়ারের পানি ঢুকে চালিতাবুনিয়ার সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ইউনিয়নের ৯ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পরেছেন। এসব পানিবন্দী মানুষজন তাদের পরিবার-পরিজন দিয়ে এখন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমা জো’র প্রভাবে জোয়ারের সময় পটুয়াখালীর নদ-নদীতে বিপদ সীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। কলাপাড়ার লালুয়া, নিজামপুর, চম্পাপুর, রাঙ্গাবালীর চর মোন্তাজ, চর আন্ডা, চালিতাবুনিয়ার চরলতা, গলাচিপার আউলিয়াপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি গ্রামে ঢুকে পড়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৬ ফুট পানি বেড়েছে। ভাটির সময় পানি একটু কমে গেলেও সন্ধ্যার পর জোয়ারের পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৮০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র, ৫২টি মুজিব কিল্লা, ৯৩টি মেডিকেল টিম, খাবার স্যালাইন ৫০ হাজার, ডায়রিয়ার স্যালাইন ৩৫ হাজার, এক লাখ টাকার শিশু খাদ্য, পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ, সিপিপি, রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস, ভলান্টিয়ার সদস্যরা।

এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাৎক্ষণিক তথ্য প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের দুটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। সব কয়টি উপজেলায়ও কন্ট্রোল রুম চালু করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]