দশমিনায় পানিবন্দি কয়েক হাজার মানুষ

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত মে ২৬ বুধবার, ২০২১, ০৭:২৫ অপরাহ্ণ
দশমিনায় পানিবন্দি কয়েক হাজার মানুষ

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝর ‘ইয়াস’ ও পূর্ণিমার জোয়ারের পনিতে দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের বুড়ির কান্ধা গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পনি ঢুকে পরেছে। এছাড়াও উপজেলার চর-বোরহান ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ না থাকায় সম্পূর্ণ পানিতে ডুবে গেছে। এ উপজেলায় পানিতে প্রায় ৩৭ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দশমিনা উপজেলার ঘূর্ণিঝর ‘ইয়াস’ ও পূর্ণিমার জোয়ারের পনিতে রণগোপালদী ইউনিয়নের চরঘুনি, পাতারচর, আউলিয়াপুর, দক্ষিণ রণগোপালদী, উত্তর রণগোপালদী, দশমিনা ইউনিয়নের সবুজবাঁগ, হাজিরহাট, গোলখালী, কাটাখালী, চরহাদী, কাউয়ারচর, সৈয়দ জাফর, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়ীয়া গ্রাম, চর বাঁশবাড়ীয়া, চর সাইমুন, ঢনঢনিয়াসহ ১৬টি গ্রামের প্রায় ২২ হাজার মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পরেছে। এছাড়াও উপজেলা সদর থেকে ১৪ কি:মি: দুরে বিচ্ছিন্ন দিপে রয়েছে চর-বোরহান ইউনিয়ন।

ওই ইউনিয়নের পশ্চিম চর-বোরহান, দক্ষিন চর-বোরহান, পূর্ব দক্ষিন চর-বোরহান, পূর্ব চর-বোরহান, চরবোরহান, মধ্য চর-বোরহান, উত্তর চর-বোরহান, দক্ষিণ চর-শাহজালাল, উত্তর চর-শাহজালালসহ ৯টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পরেছে। এসকল গ্রামের মানুষ ভয়ে দিকবেদিক ছুটছে, জেয়ারের পানিতে পুকুরে মাছের ঘের তলিয়ে কোটি টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।

চর-বোরহান ইউনিয়ন চেয়াম্যান নজির আহম্মেদ সরদার জানান, চর-বোরহান ইউনিয়ন রক্ষাবাধ না থাকায় মূলভূখন্ডসহ লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। হটাৎ বাড়ি-ঘরে পানি ওঠার ঘটনায় বসতিরা ভয়ে দিকবেদিক ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। এই ইউনিয়নের কাচা রাস্তাগুলো পানির চাপে সব ভেঙ্গে গেছে। এছাড়াও রবিশস্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, শতাধিক মাছের বড় ঘের ও ২শতাধিক পুকুর তলিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মাছ চলে গেছে এবং ইউনিয়নের ৯টি গ্রামই এখন পানির নিচে।

বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলতাফ হেসেন আকন জানান, পানির অতিরিক্ত চাপে বাঁশবাড়িয়া বেড়িবাঁধ এখন হুমকির মুখে, বেড়িবাঁধের বাহিরে প্রায় ৪০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাদের ভিটির মাটি পানিতে নিয়ে গেছে, সুধু ঘরটা দারিয়ে আছে। দশমিনা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. ইকবাল মাহাম্মুদ লিটন জানান, পানি ওঠার ঘটনায় মাহাপ্রলংকারী বান্যা ভেবে স্থানীয় জনমনে ভীতি ছড়িয়ে পরলে অনেকেই বাড়ি ছেড়ে সাক্লোন সেল্টারে চলে গেছে।

পানিতে রবিশস্য, পুকুর ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন কাচা রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে ও শতাধিক মাটির ঘরের মাটি পানিতে নিয়ে গেছে এবং ২শতাধিক বাড়ি ঘর ডুবে প্রায় ১০ কোটি সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.রোবিউল হোসেন জানান, এ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫শত লোক সাইক্লোন সেল্টারে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদেরকে মঙ্গলবার রাতে খাবার ব্যবস্থা করেছি। ক্ষয় ক্ষতির পরিমান এখনো নিশ্চিত করা হয়নি, ক্ষয় ক্ষতির পরিমান নিশ্চয়তার কাজ চলমান রয়েছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]