নিজস্ব প্রতিবেদক, বাকেরগঞ্জ : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করে শাস্তির হুঁশিয়ারি মাথায় নিয়েও তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ২৭৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

 

 

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় আজ ৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেছে।

 

 

 

 

এদিকে বেতন বাড়ানো ও গ্রেড জটিলতা নিরসনের দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ যখন বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে কর্মবিরতি পালন করছেন, তখন আরেকটি অংশ একই দাবিতে আগামি রবিবার থেকে স্কুলে ‘তালা ঝোলানোর’ হুমকি দিয়েছেন।

 

 

 

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ নামের এই মোর্চাটি একাদশ গ্রেডে বেতন, উচ্চ গ্রেডের জটিলতা নিরসন ও সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবিতে তৃতীয় দিনের মত আন্দোলন করে আসছে।

 

 

 

সহকারী শিক্ষক দাবি আদায় বাস্তবায়ন পরিষদ, বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখা নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে সারা দেশে সহকারী শিক্ষকদের চলমান তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ২৭৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আগত প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষক আজ সকাল ১০ টায় উপজেলা চত্তরে উপস্থিত হয়ে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালনসহ কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পালনের জন্য করনীয় শীর্ষক এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। মতবিনিময়ে সভা শেষে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

 

 

 

এ সময় বিভিন্ন বক্তারা বলেন , সরকার তাদের দাবি মেনে নিলেই অতি দ্রুত তারা তাদের শ্রেণি কক্ষে ফিরে যাবেন এবং যথানিয়মে কাজ শুরু করবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দাবি আদায় বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক জনাব মো রেজাউল হক, মো মামুন খান, মো সালেহীন সিকদার, মেহেরুন্নেছা, মো হাননানুর রহমান, আসম রাসেল হায়দার খান ও মাহবুবুর রহমান সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

 

 

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: রুহুল আমিন বলেন, বার্ষিক পরীক্ষা একটি সিডিউল পরীক্ষা। ১ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলবে। উপজেলার প্রত্যেকটা ঘরেই শিক্ষার্থী রয়েছে। ঠিক এই সময় আন্দোলনে যাওয়া নৈতিকভাবে ঠিক হয়নি।

 

 

 

শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে পুরো উপজেলায় পরীক্ষার পরিবেশ অস্বাভাবিক হয়ে পড়েছে। অভিভাবকেরা দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন।