নিজস্ব প্রতিবেদক: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ গ্রামে সুমনের বোন শেফালীর শাশুড়ি বার্ধক্যের কারণে মারা যান। খবর পেয়ে সুমন ও রিমন মিলে আশিকের মোটরসাইকেলে লাশ দেখতে গ্রামের বাড়ি আসছিলেন। পথে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের মাধবপুর কবরস্থান এলাকায় অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় তারা নিহত হন। তারা দুজন আপন ভাই। একজন চাচাতো ভাই।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে ফরিদপুর ভাঙায় ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তারা নিহত হন। রোববার (৭ ডিসেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে লাশগুলো গ্রামে নিয়ে আসার পর জানাজা শেষে দুধরাজপুর-মহম্মদপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন, সদকী ইউনিয়নের মহম্মদপুর গ্রামের আব্দুল করিমের দুই ছেলে ফার্নিচার মিস্ত্রি সুমন (২৫), রিমন (১৮) ও শাহিনের ছেলে পাঠাওচালক আশিক (২৮)।

পাশাপাশি খোঁড়া হয়েছে তিনটি কবর। স্বজন ও এলাকাবাসী মিলে প্রথমে সুমন মণ্ডল (২৫), এরপর তার ছোট ভাই রিমন মণ্ডল (১৪) এবং সবশেষে তাদের চাচাতো ভাই আশিক মোল্লার (২২) লাশ দাফন করে।

নিহত সুমন, রিমন ও আশিক কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের মহম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা। সুমন ও রিমন পেশায় কাঠমিস্ত্রি। আশিক ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি ভাড়ায় গাড়ি চালাতেন। তিনজনই ঢাকায় থাকতেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ গ্রামে সুমনের বোন শেফালীর শাশুড়ি বার্ধক্যের কারণে মারা যান। খবর পেয়ে সুমন ও রিমন মিলে আশিকের মোটরসাইকেলে লাশ দেখতে গ্রামের বাড়ি আসছিলেন। পথে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের মাধবপুর কবরস্থান এলাকায় অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় তারা নিহত হন। খবর পেয়ে ফরিদপুর হাইওয়ে পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে স্বজনদের খবর দেয়। আজ বেলা আড়াইটার দিকে লাশগুলো গ্রামে নিয়ে আসার পর জানাজা শেষে দুধরাজপুর-মহম্মদপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

দুপুরে মহম্মদপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সুমন, রিমন ও আশিকের বাড়ি পাশাপাশি। আশিকের বাড়িতে মানুষের ভিড়। আহাজারি করছেন মা শিউলি খাতুন ও স্বজনেরা। এ সময় আশিকের মা শিউলি খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি কি জানি, বেটা ওর সাথেই আসতেছে গো। আমি কিছুই জানিনে গো। ওরে সোনা, কিছুই বলে গেল না গো!

আশিকের বাবা শাহিন মোল্লা বলেন, সুমন আর আশিক বন্ধু ও চাচাতো ভাই। ওদের বাড়ি আসার কথা জানতাম না। সুমনের বোনের শাশুড়ির মৃত্যুর খবর শুনে ওরা বাড়ি আসতেছিল। দিবাগত রাত একটার দিকে পুলিশ ফোনে জানায় দুর্ঘটনার কথা।

সুমন ও রিমনের বাবা করিম মণ্ডল বলেন, বোনের শাশুড়ির লাশ দেখতে এক মোটরসাইকেলে আসছিলেন তারা। রাস্তা খুব ভাঙা ছিল। পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায় তিনজনই গাড়ি থেকে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। তখন আরেকটি গাড়ি এসে তাদের চাপা দেয়।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় কুমারখালীর তিনজন নিহত হয়েছেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।