নিজস্ব প্রতিবেদক : পালিয়ে যাওয়ার ১৫ মাস পর মধ্যরাতে বরিশাল নগরীর ভাড়া বাসা থেকে আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত। সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে তাকে বরিশালের মেয়র বানিয়েছিল আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ না থাকলেও শেখ পরিবারের সদস্য কোটায় নৌকার মনোনয়ন পান তিনি। পতনের একদিন আগে বরিশাল থেকে পালিয়ে যান খোকন।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নগরীর কালু শাহ সড়কে থাকা ভাড়া বাসা থেকে সব মালামাল সরিয়ে নেন শেখ পরিবারের এই সদস্য। দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে ওই বাসার ভাড়াও দিচ্ছিলেন না তিনি। মালামাল সরানোর ক্ষেত্রে স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপ সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়া থেকে শুরু করে মেয়র হিসাবে দায়িত্ব পালন পর্যন্ত মাত্র এক বছরে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে খোকন সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে।
২০২৩ সালের আগে বরিশালের সাধারণ মানুষ খুব একটা চিনত না খোকন সেরনিয়াবাতকে। সম্পর্কে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আপন ফুপাতো ভাই। যদিও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কখনোই দেখা যায়নি তাকে। তারপরও শেখ মুজিবের আপন ভাগ্নে আর শেখ হাসিনার ভাই হিসাবে পেয়ে যান মনোনয়ন।
দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই ভাতিজা সাদিক আব্দুল্লাহর হাত থেকে নিয়ে নেন বরিশালের নিয়ন্ত্রণ। নগরীর দুটি বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে হাট-ঘাট-বাজার সবই চলে যায় তার দখলে। সেই সঙ্গে শুরু হয় খোকন ও তার অনুসারীদের বেপরোয়া চাঁদা আদায় আর দখলবাজি। লোক দেখানো ভোটে মেয়র হওয়ার পর হয়ে ওঠেন আরও বেপরোয়া। হাট-ঘাট-বাজার ইজারা, দুই বাস টার্মিনাল থেকে চাঁদাবাজি, বরিশাল নগরীর উন্নয়নে বরাদ্দ হওয়া ৪শ কোটি টাকার টেন্ডার ভাগবাঁটোয়ারা-এভাবে নানা খাতে মাত্র ১ বছরেই শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেন বরিশালের তৎকালীন এই মেয়র। তার দুর্নীতির তদন্তে নামা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চিঠি দিয়েছে নগরভবনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের। জিজ্ঞাসাবাদ আর অনুসন্ধানও চালাচ্ছেন তারা।