নিজস্ব প্রতিবেদক : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাতভর দেশে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও আন্দোলনের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, খুলনা, বরিশালসহ দেশব্যাপী সড়ক ও জনপদে জনতার ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রামে ক্ষুব্ধ জনতা সাবেক দুই মন্ত্রীর বাসভবনে আগুন দেয় এবং হামলা চালায়। রাজশাহীতে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি অফিস গুড়িয়ে দেয়া হয়। সিলেটে নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী স্লোগান দেন।

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে মিছিল শুরু করে মিডিয়া মোড়, পার্ক মোড় ও শহীদ আবু সাঈদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভকারীরা। লালবাগে কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাপলা চত্বর অবরোধ করে জাতীয় পার্টির প্রতীক ভেঙে দেয়। গাইবান্ধায় বাস টার্মিনাল অবরোধ করে, সড়ক জড়িয়ে দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

খুলনা শহরে শিববাড়ি মোড় অবরোধ করে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। বরিশাল নগরীতে নথুল্লাবাদ ও চৌমাথা এলাকায় ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।

হাদির নিজ জেলা ঝালকাঠিতেও শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়ে। কলেজ মোড় এলাকায় ঢাকা–ঝালকাঠি মহাসড়ক অবরোধ করে নিহত হাদির খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। এছাড়া কুষ্টিয়া, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, জয়পুরহাট, জামালপুর, পিরোজপুর, কিশোরগঞ্জ, চাপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় ইনকিলাব মঞ্চ ও অন্যান্য সংগঠনের কর্মীরা বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং হাদির ন্যায় ন্যায় ও ইনসাফ নিশ্চিত করা।