নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে রোববার সকাল থেকে সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। তাপমাত্রার পারদ দু দিনে আগের চেয়ে ১.১ ডিগ্রী ওপরে উঠলেও গত দুদিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের ৬- ৭ ডিগ্রী নিচে থাকছে। মেঘলা আকাশ আর মাঝারী কুয়াশার সাথে উত্তর-পূবের হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল। আবহাওয়া বিভাগের মতে, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি বাড়ছে। অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

 

মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশার চাঁদরে ঢেকে আছে মেঘনা অববাহিকার সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল। ফলে রোববার সন্ধ্যা থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বরিশাল নদী বন্দর সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের নৌযোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মেঘে ঢাকা আকাশ আর ভূ’ভাগে ঘন কুয়াশায় বরিশাল সেক্টরে বিমান চলাচলও বন্ধ। ফলে সড়ক পথের ওপর চাপ বাড়ছে। সড়ক পথেও কুয়াশার দাপট থাকলেও তারইমধ্যে যানবাহন চলছে নানামুখী ঝুঁকি নিয়ে। সাথে রয়েছে বাড়তি যাত্রীর চাপ। কুয়াশার কারণেই রোববার বরিশাল সেক্টরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর ফ্লাইট বাতিল করা হয়। যাত্রীরা সকাল সোয়া ১০টার ফ্লাইট ধরতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে ঘরে ফিরে গেছেন। বরিশাল বিমান বন্দরের রানওয়েতে দৃশ্যমানতা ছিল মাত্র ৫শ মিটারেরও কম।

 

অপরদিকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা থেকে বরিশালের মুলাদীগামী ‘এমভি মহারাজ-৭’ নামের একটি যাত্রীবাহী নৌযান রোববার সকাল ৯টায় গোসাইর হাটের কোদাল পুর এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদ অতিক্রম কালে নোঙরে থাকা অপর একটি ছোট পণ্যবাহী নৌযানের ওপর আছড়ে পরে। এসময় যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ভীতি ছড়িয়ে পরে। এ দুর্ঘটনায় ‘এমভি মাহারাজ-৭’র দোতালার ডেকের প্রায় ৩০ ফুট অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কেউ হতাহত হয়নি।

 

আবহাওয়া বিভাগের মতে সোম ও মঙ্গলবার দিন এবং রাতে তাপমাত্রার পারদ আরো নামতে পারে। বুধ ও বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধির পরে শুক্রবারে তা অপরিবর্তিত থেকে পরবর্তী ৫দিনে আবার তাপমাত্রা হ্রাসের পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছে আবহাওয়া বিভাগ।

 

মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করলেও এর একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপকূল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। বরিশালে গত দুদিন ধরেই সূর্যের দেখা না মেলার পাশাপাশি মেঘাচ্ছন্ন আকাশের সাথে কুয়াশার দাপটে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের দশমিক ২ ডিগ্রী ওপরে থাকলেও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত।

 

অব্যাহত শৈত্য প্রবাহে দক্ষিণাঞ্চলের জনস্বাস্থ্যেও সংকট ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। প্রতিদিন শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল সহ এ অঞ্চলের সবগুলো হাসপাতালেই নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। কোন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের মেঝেতেও এখন রোগীর ঠাই মিলছে না। ওষুধ সহ চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব না থাকলেও রোগীর ভিড়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদেরই প্রাণ ওষ্ঠাগত। ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

 

অপরদিকে চলমান শৈত্যপ্রবাহে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দুটি অর্থকরী ফসল, বোরো বীজতলা ও গোল আলুর ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। চলতি রবি মৌসুমে বৃহত্তর দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৩.৮৫ লাখ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষ্যে ২০,৩১৭ হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু লাগাতার শৈত্য প্রবাহে বোরো বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরি’র নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষিবীদগন। পাশাপাশি প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরে যে গোল আলুর আবাদ হচ্ছে, তা ‘লেট ব্লাইট’ নামের এক ধরনের ছত্রাকবাহী রোগে আক্রান্ত হবারও শঙ্কাও ক্রমশ বাড়ছে।

 

তবে যে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে গমের আবাদ হচ্ছে, শীতের প্রকোপ বৃদ্ধির ফলে তার ফলন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে বৃহত্তর দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলায় প্রায় ১৬ লাখ টন বোরো চাল, ৩ লক্ষাধিক টন গোল আলু ও দুই লক্ষাধিক টন গম উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।