নিজস্ব প্রতিবেদক : মঙ্গলবারও ঘন কুয়াশায় ঢেকে ছিল মেঘনা অববাহিকার বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল। সাথে উত্তর-পূবের হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে দক্ষিণের জনপদ।

 

মঙ্গলবারও (৬ জানুয়ারি) কুয়াশা ভেদ করে বরিশালে সূর্য উকি মারে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। কর্মদিবস হলেও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হননি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের চেয়ে দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওপরে থাকলেও কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় জনজীবন ছিল অনেকটাই বিপর্যস্ত। তবে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মঙ্গলবারও স্বাভাবিকের প্রায় ৫ ডিগ্রি নিচে থাকায় পরিস্থিতি ছিল আরো ভয়াবহ।

গত প্রায় ১০ দিন ধরে দক্ষিণাঞ্চল যুগে কুয়াশার সাথে উত্তর-পূবের হিমেল হাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবনে অস্বস্তি অব্যাহত রয়েছে। বিরূপ এ আবহাওয়ায় জনস্বাস্থ্যের সাথে কৃষিতেও বিপর্যয় ক্রমান্বয়ে ত্বরান্বিত হচ্ছে। নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগ নিয়ে ইতোমধ্যে ১০ হাজারেও বেশী নারী-পুরুষ ও শিশু শের এ বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সহ এ অঞ্চলের সরকারি হাপসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। রোগীর ভিড় সামাল দিতে হাসপাতালগুলোর চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।

 

হাসপাতালগুলোর মেঝেতেও ঠাঁই মিলছে না ঠান্ডাজনিত রোগীদের।

অপরদিকে অব্যাহত কুয়াশা ও ঠান্ডায় বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ৩.৮৫ লাখ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষ্যে তৈরি বীজতলা এবং গোল আলু ছাড়াও শীতকালীন সবজিও চরম বিপর্যয়ের কবলে। প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো চাল উৎপাদনের লক্ষ্যে ৩.৮৫ লাখ হেক্টরে রোপনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে ২০,৩১৭ হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে হলেও, ঘন কুয়াশার সাথে তাপমাত্রার পারদ নিচে নেমে যাওয়ায় ‘কোল্ড ইনজুরী’র ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।

 

বোরো বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রখার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিবিদ। পাশাপাশি এ বিরূপ আবহাওয়ায় গোল আলু ‘লেট ব্লাইট’ রোগ থেকে রক্ষায় ছত্রাক নাশক স্প্রে করারও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডায় ফুলকপি ও বাঁধা কপি সহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজির গুণগতমান বিনষ্ট হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ বৈরী আবহাওয়ায় বরিশাল অঞ্চলের কৃষি ও কৃষি অর্থনীতির সাথে কৃষি যোদ্ধাদের ভাগ্যেরও বিপর্যয় ঘটছে। চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরে গোল আলু ও ৬৮ হাজার হেক্টরে শীতকালীন সবজির আবাদ হচ্ছে।

 

এমনকি কনকনে ঠান্ডায় কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা অনেক বেলা পর্যন্ত মাঠেই নামতে পারছেন না। জেলেরা মাছ ধরতে নদ-নদীতে নাও ভাসাতে না পাড়ায় বাজারে মছের সংকটও বাড়ছে।

 

আবহাওয়া বিভাগ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর, তৎ সংলগ্ন নিরক্ষীয় অঞ্চলের ভারত মহাসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির কথা জানিয়ে তা সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হবার কথা বলা হয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপকূল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে বলে জানান হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত বরিশালে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধির কথা বলা হলেও, বৃহস্পতিবার থেকে তাপমাত্রার পারদ আবার নামার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে পরবর্তী ৫ দিনও আবহাওয়ার তেমন কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা বলতে পারেনি আবহাওয়া বিভাগ।

 

তবে মেঘনা অববাহিকা ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকার সম্ভাবনা বেশী বলেই জানান হয়েছে। এমনকি কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে ঠান্ডার অনুভূতি বাড়ছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।