নিজস্ব প্রতিবেদক : রাশিদা বেগমের তিন ভাই থাকলেও খবর নেয় না কেউ! এখন পর্যন্ত অসহায় রাশিদার কপালে জোটেনি সরকারি কোনো সহায়তা! দুটি চোখ থাকলেও নেই দৃষ্টি। নেই আলো দেখার ক্ষমতা। কানে নেই শ্রবণ ক্ষমতা, বলছিলাম বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠি গ্রামের মৃত নুরু চৌধুরীর মেয়ে বাক প্রতিবন্ধী রাশিদা বেগমের কথা। ন্যূনতম চিকিৎসা, খাবার ও নিরাপদ বসবাসের মতো মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত স্বামীহীন রাশিদা বেগম। দীর্ঘদিন ধরে গৃহহীন ও ভূমিহীন অবস্থায় ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন। এভাবেই প্রতিদিন সংগ্রাম করে ৮ বছরের একমাত্র ছেলেকে নিয়ে কাটছে তার জীবন। চরম দারিদ্র্য আর অসহায়ত্ব তাকে নিত্যদিনের সংগ্রামে আরও জর্জরিত করে তুলেছে।
জন্মের পর থেকেই বাক প্রতিবন্ধী রাশিদার দুই চোখে ছিল আলো ছিল বুক ভরা স্বপ্ন। বিত্তবান বাবার সংসারে বেড়ে ওঠা রাশিদা বেগমের ১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের রঙ্গশ্রীর সাহিন হাওলাদারে সাথে। বিয়ের দুই বছর পরে স্বামীর সংসারে ছেলে সন্তানের জন্ম হওয়ার পরেই শারীরিক অসুস্থতায় রাশিদা বেগমের দুটি চোখের দৃষ্টি চলে যায়। দুটি চোখের আলো হারিয়ে অন্ধ হয়ে গেলে স্বামীর ঘর থেকে তাকে তারিয়ে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে রাশিদার বাবা-মা মারা যাওয়ায় আরো অসহায় হয়ে পড়েন।
শিশু সন্তান নিয়ে রাশিদা বেগম বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিলে তিন ভাইয়ের কারো ঘরে তার ঠাই মেলেনি।
বঞ্চিত হয়েছেন বাবার সম্পত্তি থেকে। জীবিকার কোনো উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে শিশু সন্তান নিয়ে ভিক্ষা করেই নিজের দিন চালান তিনি। কখনো বাজারে, কখনো মসজিদের সামনে, আবার কখনো রাস্তায় বসে সহায়তার আশায় থাকেন। এলাকার মানুষের সহায়তায় কোনোভাবে টিকে থাকলেও এখনো তিনি সরকারি কোনো সামাজিক নিরাপত্তা বা পুনর্বাসন সুবিধা পায়নি। ফলে কখনো খোলা আকাশের নিচে বা প্রতিবেশীর বারান্দায় রাত কাটাতে হয় তাকে।
রাশিদা বেগমের মতো অসহায় মানুষদের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। আশ্রয়হীন ও সম্পূর্ণ অক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তিনি এখনো তালিকাভুক্ত নন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
অসহায় এ নারীটির চোখে-মুখে কষ্টের ছাপ স্পষ্ট। জীবনের শেষ বয়সে একটু নিরাপত্তা আর মাথা গোঁজার ঠাঁই এটাই যেন তার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, অসহায় রাশিদা বেগমের খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।