মোঃ ফেরদাউছ সিকদার: দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বরিশালের নির্বাচনী মাঠে সবচেয়ে বেশি চমক দেখাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে বরিশাল-৫ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে দলটির সুশৃঙ্খল প্রচারণা এবং তৃণমূল গোছানোর কৌশল অন্যান্য দলগুলোর জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ প্রার্থী-জটের বিপরীতে জামায়াত অনেক আগেই তাদের প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইনকে চূড়ান্ত করে রাজপথে নেমেছে।
কৌশলী প্রচার ও গণসংযোগে জামায়াত প্রার্থীর প্রচারণায় এবার নতুনত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা কেবল ধর্মীয় সভা বা কর্মী বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি, বাজার ও সামাজিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন। দলটির একটি বড় শক্তি হলো তাদের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী বাহিনী। প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিটে তাদের ছোট ছোট ‘কোর গ্রুপ’ কাজ করছে, যা ভোটারদের মনে নীরবে প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত এবার বরিশাল সদরের তরুণ ভোটার এবং যারা দীর্ঘদিন কোনো দলকে নির্দিষ্টভাবে সমর্থন দেয়নি, তাদের ভোট টানার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন এবং ইনসাফ কায়েমের স্লোগান দিয়ে তারা সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন তার মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। দাখিল পরবর্তী এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি বলেন, “বরিশালের মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরা কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং উন্নয়ন ও সেবার রাজনীতি করতে চাই। ইনশাআল্লাহ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বরিশাল-৫ আসনে মানুষ আমাদের আমানত দেবে।
বিএনপির সঙ্গে সমীকরণ :
বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে জামায়াতের এই তৎপরতা রাজনৈতিক মহলে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদি বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে জোটগত কোনো নির্বাচন না হয়, তবে ভোট ভাগাভাগির সুবিধা অন্য কেউ পাবে কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে জামায়াত নেতারা দাবি করছেন, তারা কারো ভোট কাটতে নয়, বরং নিজেদের সামর্থ্য দিয়ে জয়ী হতে মাঠে নেমেছেন।
নির্বাচনের প্রস্তুতিতে এগিয়ে জামায়াত :
গোপন তৎপরতা কাটিয়ে এখন প্রকাশ্য রাজনীতির ময়দানে জামায়াত বেশ আত্মবিশ্বাসী। গত বরিশাল সিটি নির্বাচনে একটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জয়ের পর তারা মানসিকভাবে আরও চাঙ্গা হয়েছে। ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে তাদের সক্রিয় ভূমিকা তরুণ প্রজন্মের কাছে দলের ভাবমূর্তি উন্নত করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।
বরিশাল-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর এই ‘নীরব বিপ্লব’ শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে সরোয়ারের ব্যক্তিগত ইমেজ বনাম জামায়াতের সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক শক্তি—এই লড়াই যে কাঁটায় কাঁটায় হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।