​নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহকারী প্রকৌশলী আল আমিনের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।

 

একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও মাত্র কয়েক বছরে তিনি বিশাল বিত্ত-বৈভবের মালিক বনে গেছেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর প্রাণকেন্দ্রে তার একটি দৃষ্টিনন্দন ৯তলা ভবনসহ ঢাকা ও বরিশালের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অঢেল সম্পত্তি।

 

​
​সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর অভিজাত এলাকায় আল আমিনের মালিকানাধীন একটি বহুতল ভবন (৯তলা) মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

 

 

স্থানীয়দের দাবি, এই ভবনটি নির্মাণে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। বেতনভুক্ত একজন সাধারণ প্রকৌশলীর পক্ষে এত অল্প সময়ে কীভাবে এমন বিলাসবহুল বাড়ি করা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

 

​নামে-বেনামে অঢেল সম্পদ
​অভিযোগ রয়েছে, শুধু বাড়ি নয়, নিজের ও নিকটাত্মীয়দের নামে বিপুল পরিমাণ জমি এবং ব্যাংকে মোটা অঙ্কের অর্থ জমা রেখেছেন তিনি।

 

সূত্র বলছে, পাউবোর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, কাজ না করে বিল উত্তোলন এবং ঠিকাদারদের সাথে যোগসাজশের মাধ্যমে তিনি এই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

 

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাউবোর এক ঠিকাদার জানান, প্রকৌশলী আল আমিনের সায় ছাড়া কোনো বিল পাস হয় না। প্রতিটি কাজে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দিতে হয়। এই সিন্ডিকেটের কারণেই তিনি আজ কোটিপতি।

​তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী আল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সম্পদের কথা অস্বীকার করেননি, তবে তা ‘বৈধ আয়’ থেকে অর্জিত বলে দাবি করেন।

​
​বিপুল পরিমাণ এই অবৈধ সম্পদের উৎস নিয়ে সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সচেতন মহলের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যদি সুষ্ঠু তদন্ত করে, তবে তার আয়ের উৎসের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

​একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন অস্বাভাবিক জীবনযাপন ও সম্পদ অর্জনের বিষয়টি এখন বরিশালের টক অব দ্য টাউন।

 

এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয় কি না।