জিহাদ রানা।। বরিশাল।। | ২০ জানুয়ারি, ২০২৬।। ​স্মার্ট বাংলাদেশ আর ইনসাফপূর্ণ আগামীর স্বপ্ন নিয়ে যারা প্রথমবার ব্যালটে আঙুল ছোঁয়াবেন, তাদের জন্য বরিশাল-৫ (সদর) আসনের নির্বাচনী মাঠ এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয়।

 

 

আজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলালকে সরিয়ে নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমকে সমর্থন দেওয়ায় ভোটের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।

 

​নেতাদের জবানিতে ঐক্যের বার্তায় ​মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (নায়েবে আমির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)

 

তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের এই লড়াই কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, বরং ঘুণে ধরা সিস্টেম পরিবর্তনের জন্য।

 

বরিশালকে আমরা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি আধুনিক শহর হিসেবে গড়তে চাই। যারা প্রথমবার ভোট দেবেন, তাদের প্রতি আমার আহ্বান—পুরানো সংঘাতের রাজনীতি ভুলে একটি নীতিবান নেতৃত্বের পক্ষে দাঁড়ান। জামায়াতের এই সমর্থন আমাদের সেই ইনসাফ কায়েমের লড়াইকে আরও বেগবান করবে।

 

​অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল (জামায়াত নেতা), ও জামায়াত মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী প্রার্থী সদ্য প্রত্যাহার করে তিনি তার সমর্থকদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ​আমরা ঐক্যবদ্ধ আগামীর স্বপ্ন দেখি। ভোটের মাঠে ব্যক্তিগত ইগো বা দলীয় সংকীর্ণতার চেয়ে বড় হলো জনগণের মুক্তি। তরুণ প্রজন্মের ভোটাররা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মুফতি ফয়জুল করীম সাহেবকে বিজয়ী করার শপথ নিয়েছি।

 

 

​নতুন ভোটাররা কেন এই সমীকরণে আগ্রহী? ​১. পরিবর্তনের অঙ্গীকার: বরিশাল সদরে দীর্ঘদিনের চেনা রাজনৈতিক মুখগুলোর বাইরে মুফতি ফয়জুল করীমের ব্যক্তিগত ইমেজ এবং জামায়াতের সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনী তরুণদের একটি ‘ক্লিন ইমেজ’ ও ‘বিকল্প শক্তি’র স্বাদ দিচ্ছে। ২. কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন: দুই দলের নেতারাই তাদের বক্তব্যে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং বরিশালের শিল্পায়নকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, যা নতুন ভোটারদের মূল দাবি। ৩. ভোট ভাগাভাগি বন্ধ: জামায়াত সরে দাঁড়ানোয় এখন মূল লড়াই হবে দ্বিমুখী। ফলে ভোটারদের কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন অনেক সহজ।

 

​

​বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমঝোতার ফলে বরিশালে ইসলামী ঘরানার ও সমমনা প্রায় ১ লক্ষাধিক ভোট এখন একই বাক্সে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এটি বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর জন্য যেমন দুশ্চিন্তার, তেমনি তরুণ ভোটারদের জন্য এটি একটি শক্তিশালী জোটবদ্ধ শক্তির উত্থান হিসেবে কাজ করছে।