​মোঃ ফেরদাউছ সিকদার: বরিশাল-৫ (সদর) আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে যোগ হলো নতুন মাত্রা। এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নিজেদের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দুই দলের এই আকস্মিক সমঝোতায় বরিশালের রাজপথ এখন সরগরম।

​

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশাল সদর আসনটি বরাবরই ইসলামী ঘরানার দলগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী ঘাঁটি। জামায়াতের প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর ফলে ‘ইসলামী ঘরানার’ ও সমমনা দলগুলোর প্রায় ১ লক্ষাধিক ভোট এখন সরাসরি হাতপাখা বা ইসলামী আন্দোলনের বাক্সে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই ঐক্যবদ্ধ ভোট ব্যাংক নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে নির্ধারক ভূমিকা পালন করতে পারে।

 

এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর জন্য এই জোটবদ্ধ শক্তি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে যেখানে ভোট বিভাজনের সুযোগ ছিল, এখন সেখানে একীভূত ভোট ব্যাংক বিএনপির জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

​এদিকে তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ এই জোটবদ্ধ শক্তিকে ‘বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি’ হিসেবে দেখছে। ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই জোটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 

​অন্যদিকে, ​ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে “বিজয় নিশ্চিত করার পথে বড় পদক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

 

এছাড়াও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে যে, বরিশালের এই মডেল দেশের অন্যান্য আসনেও প্রভাব ফেলবে কি না।
​

 

জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের এই সমঝোতা বরিশাল-৫ আসনের নির্বাচনী লড়াইকে দ্বিমুখী থেকে ত্রিমুখী কিংবা আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, বড় দলগুলো এই জোটবদ্ধ শক্তির মোকাবিলায় নতুন কী কৌশল গ্রহণ করে।