নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাত্র ১৮ দিন বাকি থাকতে বরিশালে বেশিরভাগ প্রার্থীরাই প্রচারণার প্রতিটি মূহর্তকেই নিঙড়ে নিচ্ছেন। বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনের ৩০ প্রার্থীর অন্তত ১৮-২০ জন এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি এমন অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন, যাদের নাম সাধারণ ভোটারগণ অতীতে কখনো শোনেননি। এমনকি পুরো দক্ষিণাঞ্চল যুড়ে ভোটের ডামাডোল অব্যাহত থাকলেও এ অঞ্চলের ১২৪ প্রার্থীর অন্তত অর্ধেক প্রার্থীরই এলাকায় দেখা নেই।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ৬টি আসনের মধ্যে সবার দৃষ্টি এখন বিভাগীয় সদর, ৫ নম্বর আসনের দিকে এ আসনে অতীতের নিরপেক্ষ নির্বাচনে না হারা বিএনপি’র মুজিবুর রহমান সরোয়ারের মূল প্রতিদন্ধী ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহম্মদ ফয়জুল করিম।
১৯৯১ থেকে এ আসনে ইসলামি আন্দোলনের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কখনো বিজয়ের হাসি হাসেন নি। অপরদিকে ১৯৭৩-এর পরে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচনেই বরিশাল সদর আসনে বিএনপি প্রার্থীর পরাজয় ঘটেনি। সেখানেই এবার ভাগ বসাতে মরিয়া ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী। এমনকি ১১ দলীয় জোট ভেঙে যাবার পরেও ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীরের সম্মানে জামায়াতে ইসলামি তাদের সাজানো বাগান ছেড়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে।
তবে দলীয় সিদ্ধান্তনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের সক্রিয় কর্মী থেকে সমর্থকদের কতভাগ ভোট ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থীর পক্ষে যাচ্ছে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ৬টি আসনে ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৮ জন ভোটার ৮৩৩টি কেন্দ্রের ৫, ১৯৭টি বুথে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে বিপুলসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়াও প্রায় ২০ হাজার ভোট কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করার পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণও সম্পন্নের পথে। প্রতিটি সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ৩ জন সশস্ত্র পুলিশ ছাড়াও ১৩জন আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। যার মধ্যে ৩ জন অস্ত্রধারী আনসারও থাকছেন। তবে স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে ৪ জন করে সশস্ত্র পুলিশ থাকবে বলে জানা গেছে। উপরন্তু যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের মতো বরিশালেও বিপুলসংখ্যক সেনা সদস্য ছাড়াও বিজিবি ও ল্যাব টহলে থাকবে।
নির্বাচনকে ঘিরে বরিশালের গৌরনদীতে ছোটোখাটো দু একটি ঘটনা ছাড়া এখনো কোথাও তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ‘পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ বলে জানিয়েছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি এবং মহানগর পুলিশ কমিশনার।