নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরাজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ মিরাজুল ইসলাম মিরাজ ও তার স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে ২ হাজার ৮৩২ কোটি ৭৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ  সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিং এর পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

 

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পিরোজপুর সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আজ বৃহস্পতিবার দদুক কার্যালয়ে মামলাটি করেন।

 

মামলার বাদী ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ইফতি ইটিসিএল (প্রাঃ) লিমিটেড, ইফতি এন্টারপ্রাইজ ও সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এর সত্বাধিকারী মিরাজের এর নামে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও দোকান ক্রয় বাবদ ৩৬ কোটি ৭৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৭/-টাকা মূল্যের স্থাবর সমপদ এবং বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয়, ব্যবসার মূলধন, কোমপানির শেয়ারে বিনিয়োগ, ০৯টি গাড়ি ক্রয় ৫০,৬১,০০,৬৩৬/- টাকা মূল্যের অস্থাবর সমপদসহ মোট ৮৭,৩৪,৪৯,২৮৩/-টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সমপদ অর্জনের তথ্য পায় দুদক।

 

তার পারিবারিক ব্যয় পাওয়া ২৯ হাজার ৪৯ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৬টাকা। এক্ষেত্রে মিরাজুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে অর্জিত ও তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ আয় ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সমপদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখার সত্যতা পায় দুদক। এ ছাড়া মিরাজ সরকারি অর্থ আত্মসাতলব্ধ অর্থের মোট ২ হাজার ৬৯১ কোটি ৪৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ৯টি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় জমাপূর্বক অবৈধ আয়ের উৎস গোপন করার অসদুদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যাংকের একাধিক শাখার মাধ্যমে স্থানান্ত, হস্তান্তর ও রূপান্তর করার অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দুদক ওই মামলা করে। মোঃ মিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজ-এর প্রোপ্রাইটর আসামি শামীমা আক্তার বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে অর্জিত ও তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার ২৫১ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সমপদ অর্জন এবং এলজিইডির  নিযুক্ত ঠিকাদার হিসেবে প্রকল্পের কাজ না করে সরকারি অর্থ আত্মসাত এর একই অভিয়োগে পৃথক মামলা হয়।  এক্ষেত্রে পারিবারিক ব্যয়সহ দুদক তার নামে মোট ৩২ কোটি ৩৬ লাখ ৪৭ হাজার ২৩৯ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সমপদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু দুদক তদন্তে তার গ্রহণযোগ্য উৎসের আয় পায়  ৭ কোটি ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ৯৮৮ টাকা।

 

এ বিষয়ে মামলার বাদী মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান দুদক এর তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম এর তদন্তে ওই দুই আসামীর বিরুদ্ধে বিপুল অংকের টাকার দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দু’জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা (মামলা নং ০১ ও ০২) দায়ের করা হয়।