বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকসহ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের আর্থিক স্বচ্ছতার পাশাপাশি স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

মোকাম বরিশালের বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা মামলার সূত্রে জানা যায়, সি.আর মামলা নং–৭৭৯/২০২৫ (বাকেরগঞ্জ)-এ দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

মামলার বাদী মোঃ মনিরুজ্জামান (৫৪) অভিযোগ করেন, বাকেরগঞ্জ থানাধীন ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনিচুর রহমান হাওলাদার (১নং আসামি) ও সহকারী শিক্ষক মোঃ নসরুল আমিন গাজী (২নং আসামি) যৌথ স্বাক্ষরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে একাধিকবার অর্থ উত্তোলন করেন।

 

ব্যাংক হিসাব বিবরণী অনুযায়ী—
১২ জানুয়ারি ২০২৫ অগ্রণী ব্যাংক, রানীরহাট শাখা থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা,
২৪ মার্চ ২০২৫ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, মকিমাবাদ বাজার শাখা থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা,
১৭ জুলাই ২০২৫ সোনালী ব্যাংক, হলতা বন্দর শাখা থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।
এতে মোট উত্তোলিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

 

বাদীর অভিযোগ, এসব অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে বিদ্যালয়ের কোনো সভার রেজুলেশন, ব্যয়ের অনুমোদন বা হিসাব উপস্থাপন করা হয়নি। একাধিকবার জানতে চাওয়া হলেও আসামিরা অর্থ ব্যয়ের কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এমনকি মৌখিকভাবে টাকা বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে ফেরত জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি।

 

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্ট ২০২৫ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আসামিরা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।

 

এদিকে মামলার ধার্য তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০২৬-এ আদালত চত্বরে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নজরে আসে। অভিযোগ রয়েছে, মামলার বিবাদী দুই শিক্ষক ছাড়াও বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী—যারা মামলার কোনো পক্ষ নন—বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে আদালত চত্বরে একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

 

উপস্থিত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে শিক্ষক তারেকুল, আজাদ, মামুন, গোপাল চন্দ্র, তাপস, সঞ্জীব, অফিস সহকারী আশিষ এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রাসেলের নাম জানা গেছে। স্কুল চলাকালীন সময়ে পাঠদান রেখে এভাবে আদালতে উপস্থিত থাকা এবং কার নির্দেশে তারা সেখানে গিয়েছিলেন—তা নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

এ বিষয়ে মামলার প্রথম বিবাদী ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনিচুর রহমান হাওলাদার বলেন, মামলার ধার্য তারিখ থাকায় তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং বিদ্যালয়ের দায়িত্ব সিনিয়র শিক্ষিকা নিলিমার কাছে ন্যস্ত ছিল। নিলিমার কাছে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হলেও পরে তিনি স্বীকার করেন যে পাঁচজন শিক্ষিকা ছাড়া বাকি শিক্ষকরা অনুপস্থিত ছিলেন। আগের দিন ছয়জন শিক্ষক লিখিতভাবে ছুটির আবেদন করেছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে একসঙ্গে ছয়জন শিক্ষককে ছুটি দেওয়ার ক্ষেত্রে কার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল—সে বিষয়ে ওই শিক্ষিকা সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি বলে “শিক্ষার্থীদের পাঠদান রেখে শিক্ষক-কর্মচারীদের আদালতে উপস্থিত থাকা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত সমনের আদেশ প্রদান করেছেন।