নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন পবিত্র ইদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঝালকাঠির সেমাই কারখানাগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে এই সুযোগে উৎপাদন খরচ কমাতে কারখানাগুলোতে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশু-কিশোর শ্রমিক। আর এই শিশুশ্রম আড়াল করতে মালিকপক্ষ নানা অজুহাত ও কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের কাঠপট্টি ও পশ্চিম চাঁদকাঠি এলাকার বেশ কিছু সেমাই কারখানা সরেজমিন পরিদর্শনে এমন চিত্র দেখা গেছে।

শহরের কাঠপট্টি এলাকার মো. নান্না মিয়ার মালিকানাধীন মেসার্স মদিনা ফুড প্রোডাক্টসে দেখা যায়, দুজন শিশু শ্রমিক সেমাই প্যাকেজিংয়ের কাজ করছে। তারা নিজেদের মহেশখালীর বাসিন্দা এবং স্কুলছাত্র পরিচয় দিলেও নাম বলতে রাজি হয়নি। প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে কারখানার কারিগর জাফর হোসেন দ্রুত তাদের ভেতরে সরিয়ে নেন। জাফর হোসেন দাবি করেন, ওরা পাশের বাসার, শখের বশে এখানে দেখতে এসে কাজে হাত দিয়েছে। এ বিষয়ে কারখানার মালিক নান্না মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

একই এলাকার কুলসুম সেমাই কারখানায় কাজ করতে দেখা গেছে চারজন কিশোর শ্রমিককে। তারা সবাই নলছিটি উপজেলার খাগড়াখানা মডেল হাই স্কুলের ছাত্র। এদের মধ্যে শাকিব দশম শ্রেণি, রুহুল আমীন এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং অহেদুল ও নীরব অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। কারখানার মালিক শাখাওয়াত হোসেনের দাবি, স্কুল বন্ধ থাকায় তারা ‘স্বেচ্ছায়’ কাজ করতে এসেছে।

 

 

পশ্চিম চাঁদকাঠির মক্কা সেমাই কারখানায় কর্মরত উজিরপুর থেকে আসা দুজন কিশোর শ্রমিক। তারা পড়াশোনা করে না বলে জানালেও কাজের বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হয়নি। কারখানার মালিক আইউব আলী জানান, রমজানে সেমাইয়ের বাড়তি চাহিদা থাকায় এরা ‘মৌসুমি শ্রমিক’ হিসেবে কাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঝালকাঠিতে শিশুশ্রম দেখভালের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দপ্তর নেই। এমনকি জেলায় ঠিক কতটি সেমাই কারখানা চালু আছে, তার সঠিক পরিসংখ্যানও নেই কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে।

 

 

তবে জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ফয়েজ জালাল উদ্দিন বলেন, এর আগে অভিযানে সেমাইয়ে তেলাপোকা পাওয়ায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। আমাদের নিয়মিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত আছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা সহকারী পরিচালক সাফিয়া সুলতানা জানান, বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে। পর্যায়ক্রমে এসব কারখানাতেও অভিযান চালানো হবে।