সঞ্জিব দাস, গলাচিপা : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিবিড় গাজী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত নিবিড় গাজীর বাড়ি রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের সেনের হাওলা গ্রামে। তিনি ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

পরিবারের অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। সময়মত সঠিক চিকিৎসা, পরামর্শ কিংবা উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রেফার করা হলে হয়তো এ ঘটনা এড়ানো যেত।

নিবিড় গাজীর বাবা মজিবর গাজী জানান, রোববার সকালে তার ছেলের জ্বর ওঠে। রাতে ডায়রিয়া ও বমি শুরু হয়। সোমবার সকালে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় এবং সকাল ৯টার দিকে ভর্তি করা হয়।
তিনি বলেন, ডাক্তার প্রথমে বলেন সমস্যা নেই। কিন্তু মৃত্যুর ১০-১৫ মিনিট আগে ডাক্তার নোমান পারভেজ আমার স্বাক্ষর নিয়ে বলেন পটুয়াখালী নিয়ে যেতে। ততক্ষণে আমার ছেলে মারা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে কর্তব্যরত চিকিৎসক গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নোমান পারভেজের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার  মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডায়রিয়া ছিল অতিরিক্ত। ৭-৮ দিন নাকি অসুস্থ ছিল। এখানে আজ যখন আসছে, তখন অবস্থা খুব খারাপ ছিল।স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পানি ও লবণ শূন্যতার কারণে ওষুধে কাজ করছিল না।

তিনি আরও বলেন, রোগীকে রেফার করা হয়েছিল। শুরু থেকেই বলা হয়েছিল রোগীর অবস্থা ভালো না; কিন্তু পরিবারের লোকজন নিতে পারেনি। তাই বন্ডসই রেখে চিকিৎসা চলছিল। পরে  চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মারা যান।

এদিকে রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান ফরাজী বলেন, নিবিড় গাজীর অকাল মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত। পরিবারের কাছ থেকে জেনেছি সঠিক চিকিৎসার অভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রাঙ্গাবালী উপজেলার ১৪ বছর হলেও এখনো একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু হয়নি। ফলে এ উপজেলার মানুষকে চিকিৎসার জন্য নদী পেরিয়ে গলাচিপা বা পটুয়াখালীতে যেতে হয়। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে এতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় স্থানীয়দের।

তাদের দাবি, দ্রুত রাঙ্গাবালীতে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চালু না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ভবিষ্যতেও আরও দেখতে হতে পারে।