নিজস্ব প্রতিবেদক: বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের দুই সহস্রাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে সদর রোডে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে কয়েক ঘণ্টা ধরে সড়কে শ্রমিকদের উপস্থিতির কারণে এলাকায় যান চলাচলেও কিছুটা ধীরগতি দেখা যায়।

 

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে শ্রম অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যৌথ সভার মাধ্যমে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক শ্রমিকদের বেতন ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবে ওই গেজেটে উল্লেখ করা হয়, দৈনিক মজুরি ভিত্তিক শ্রমিকরা কোনো ধরনের উৎসব ভাতা পাবেন না।
এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। তাদের দাবি, সারাবছর শহরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় কাজ করলেও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবে ভাতা না দেওয়া তাদের প্রতি অবিচার।

 

শ্রমিকরা জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দ্রুত পরিশোধ এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ঈদ বোনাস দেওয়ার দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন।

 

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক রহিম মিয়া বলেন, “আমরা সারাবছর শহর পরিষ্কার রাখি। অথচ ঈদের সময় পরিবার নিয়ে আনন্দ করার মতো সামর্থ্য থাকে না। অন্তত একটি ঈদ বোনাস আমাদের দেওয়া উচিত।”

পরিচ্ছন্নতা কর্মী পারুল বেগম বলেন, “বর্তমান বাজারে ১৬ হাজার টাকা বেতনে সংসার চালানোই কঠিন। তার ওপর উৎসব ভাতা না থাকায় ঈদের সময় আমাদের খুব কষ্টে থাকতে হয়।”

 

আরেক শ্রমিক সোহাগ বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনা করে দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

 

পরিচ্ছন্নতা কর্মী রবি দাস বলেন, মাসে ৩০ দিন কাজ করে ২২ দিনের হাজিরার টাকা পান তারা। বাকি ৮ দিনের কোন হাজীরা তারা পান না। এছাড়া গতবছর ঈদ বোনাস দেয়া হলেও এবছর ঈদ বোনাস না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। না দেয়া হলে তারা কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বরিশাল নগরীর দুই সহস্রাদিক পরিছন্নতা কর্মীরা।

 

তবে শ্রমিকদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে জানিয়েছেন।