ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধিঃ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সেহেল মনজুর বলেছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন খাল দীর্ঘদিন অবহেলা ও রাজনৈতিক কারণে খনন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো পর্যায়ক্রমে পুনঃখনন শুরু করা হয়েছে। এক সময় দেশের উন্নয়ন ও কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে খাল না
কাটায় সেগুলো ভরাট হয়ে যায় কিংবা দখল হয়ে পড়ে। অথচ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সোমবার সকাল ১১টায় পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া ভুবেনশ্বর ব্রিজ সংলগ্ন মোল্লার খাল পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এর খাল কাটা কর্মসূচির আলোকে প্রধানমন্ত্রী ঞধৎরয়ঁব জধযসধহ-এর নির্দেশনায় সারাদেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ভান্ডারিয়ায় মোল্লার খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। পিরোজপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোর তালিকা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে
সেসব খাল পুনঃখনন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বন্ধ হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরুদ্ধার করা। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে খাল ভরাট করে অবৈধভাবে বসতি গড়ে তোলা হয়েছে কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে খালের প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের এই উদ্যোগের সুফল পেতে হলে খালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত সপ্তাহে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম চালু করেছে। এই কর্মসূচি নিয়ে একটি মহল নানা ধরনের সমালোচনা করেছিল এবং এটিকে ভাঁওতাবাজি বলে আখ্যা দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এই কর্মসূচি এখন চালু হয়েছে এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ বিভিন্ন সময় ‘জান্নাতের টিকিট’ নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে এবং নানা ধরনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু সরকার জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের ভাঁওতাবাজি করেনি। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমই তার প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে কৃষক
কার্ড কার্যক্রমও চালু করা হবে।

পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী, মেজর ইসরাফ হোসাইন, বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পার্থ প্রমিত সাহা, ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) উজ্জ্বল হালদার প্রমুখ।