বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্ট বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার আহবায়ক বিএনপি নামধারী নেতা নিমাই কীর্তনীয়ার কারসাজিতে কলসকাঠীতে একটি কীর্তন অনুষ্ঠানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ নেতাদের নাম ব্যানারে লিখে ওই প্রোগ্রামে এমপি আবুল হোসেন খানকে প্রধান অতিথি করায় ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। তাদের এ ক্ষোভ যে কোন মুহূর্তে বিক্ষোভে রুপ নিতে পারে।
সুত্রে জানা যায়, উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের বাগদিয়া গ্রামে গত ২২ মার্চ শ্রী শ্রী গনেশ পাগলের ভক্তবৃন্দের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানকে প্রধান অতিথি এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শওকত হোসেন হাওলাদার ও ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আরিফুল করিম দুলালকে বিশেষ অতিথি করা হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় যে, একই অনুষ্ঠানে কলসকাঠী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল হাওলাদার ও আওয়ামীলীগের নেতা তপন শিকদারকে বিশেষ অতিথি করে ব্যানারে নাম লেখা হয়। একই অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন নেপথ্যে অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের উপজেলা শাখার আহবায়ক নিমাই কীর্তনীয়া। অনুষ্ঠানে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাদের বিশেষ অতিথি করলেও উপজেলা বিএনপি ও কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান কমিটির সুপার ফাইভের কারো নাম রাখা হয়নি। এনিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ধারণ করে।
কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন মোল্লা জানান, কলসকাঠীর বাগদিয়া গ্রামে গনেশ পাগলের ভক্তবৃন্দের মিলন মেলা অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ নিমাই কীর্তনীয়ার নির্দেশে হয়েছে। যেহেতু সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানকে ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করায় তিনি গিয়েছেন। তাই আমরা ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ তার সাথে অংশগ্রহণ করেছি। অনুষ্ঠানের ব্যানারে ইউনিয়ন বিএনপি’র বর্তমান কমিটির কারো নাম রাখেনি। অথচ ওই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিশেষ অতিথি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা মর্মাহত।
কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ নুরউদ্দিন জানান, গত ২২ মার্চ বাগদিয়া গ্রামে অনুষ্ঠানে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকে বিশেষ অতিথি করে তাদের নাম ব্যানারে লিখলেও উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি’র বর্তমান কমিটির কাউকেই অতিথি হয়নি। বিষয়টি দুঃখজনক। অনুষ্ঠানের আয়োজক বিএনপি নেতা নিমাই কীর্তনীয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে মিলেমিশে একাকার। তিনি ইউনিয়ন বিএনপি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে মেতেছেন। এ বিষয়ে তিনি মাননীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
কাচারিবাড়ি সার্বজনীন মন্দির আঙ্গিনা কমিটির সভাপতি সুজন চন্দ্র মন্ডল জানান, ব্যানার থেকে শুরু করে অনুষ্ঠানের সব দায়িত্ব পালন করেছে বিএনপি নেতা নিমাই কীর্তনীয়া। ব্যানারে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম দেয়া কিংবা উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি নেতাদের অতিথি না করায় যদি ভুল হয়ে থাকে সেটি নিমাই কীর্তনীয়ার অজ্ঞতা। এজন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যফ্রন্টের উপজেলা শাখার সদস্য সচিব গোপাল চন্দ্র দাস জানান, বাগদিয়া গ্রামে গনেশ পাগলের ভক্তবৃন্দের মিলনমেলার অনুষ্ঠানে ব্যানারে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম রাখা নিয়ে ফ্রন্টের আহবায়ক নিমাই কীর্তনীয়ার সাথে তাদের বাকবিতন্ডা ও মনোমালিন্য হয়েছে। সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি অপকর্ম করে সেটি তার নিজস্ব বিষয়। সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি কিবা ভূমিদস্যুতা করলে তাদেরকেও ছাড় দেয়া হবেনা।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান মিজান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানকে প্রধান অতিথি করা হয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের ব্যানারে আওয়ামী লীগের নেতাদের নাম থাকা দুঃখজনক। এমনকি ব্যানারে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দের নাম দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক নিমাই কীর্তনীয়াকে সতর্ক করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
অভিযুক্ত নিমাই কীর্তনিয়ার সাথে আলাপকালে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, অনুষ্ঠানের আয়োজক কাচারিবাড়ি সার্বজনীন মন্দির আঙ্গিনা কমিটি। ব্যানারে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম দিলে সেটা তাদের ব্যাপার।