ডেস্ক সংবাদ : বরিশাল শহরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। শেষপর্যন্ত অশ্বিনীকুমার টাউন হলের ভাড়া অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে এমন সিদ্ধান্তেও সংশয় কাটেনি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে।

 

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন অশ্বিনীকুমার হলের ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান।

 

এর আগে ভাড়া বাড়ানোর কারণে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ওপর চাপের বিষয়টি নিয়ে ২৮ মার্চ কালের কণ্ঠের অনলাইনে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘ভাড়ার চাপে মঞ্চ ছাড়ছে সংস্কৃতি’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, ‘তিন হাজার টাকার ভাড়া কিভাবে হঠাৎ সাড়ে ১১ হাজার টাকায় পৌঁছায়, সেটি আমরা পর্যালোচনা করেছি। আমি নিজেও একসময় সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।

একটি সংগঠনের পক্ষে এই ভাড়া বহন করা প্রায় অসম্ভব।’ তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় ভাড়া অর্ধেকে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি হলের ভেতর শৌচাগার উন্নয়নের কাজও চলছে।

তবে ভাড়া কমানোর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও সাংস্কৃতিক কর্মীরা বলছেন, সমস্যার মূলে এখনো হাত পড়েনি।

তাদের মতে, এই হলের মূল চরিত্র ছিল উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসর, যেখানে অর্থ নয়, অংশগ্রহণই ছিল প্রধান শর্ত। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন ধরে নামমাত্র ভাড়ায় কার্যক্রম চললেও পরে তা বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়, যা অনেক সংগঠনের জন্য চাপ তৈরি করে। ফলে এখন ভাড়া অর্ধেকে নামানোর পরও সংগঠনগুলোর পক্ষে তা মেটানো কঠিন।

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘জনগণের অর্থে গড়ে ওঠা একটি স্থাপনা কেন ভাড়াভিত্তিক বাণিজ্যে পরিণত হবে?’ তিনি বলেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচিত হলে তিনি অশ্বিনী কুমার হল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যেটা খরচ হবে, সেটার সঙ্গে সমন্বয় করেই ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে রাখার উদ্যোগ নেবেন।

ভাড়া কিছুটা কমলেও ছোট নাট্যদল, আবৃত্তি সংগঠন ও সাহিত্যচক্রগুলোর জন্য এটি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একটি আয়োজনের মোট ব্যয়ের বড় অংশই চলে যায় হল ভাড়ায়, ফলে নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

 

একাধিক নাট্যকর্মী বলেন, ‘আমরা লাভের জন্য কাজ করি না। খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হয়। ভাড়া কমলেও পুরো চাপ কমেনি।’ তারা হলটি সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য আরো সহজলভ্য করার দাবি জানান।

 

এক শতাব্দিরও বেশি সময় ধরে এই টাউন হল বরিশালের সাংস্কৃতিক চর্চার অন্যতম কেন্দ্র। অশ্বিনীকুমার দত্তর ভাবনা থেকে গড়ে ওঠা এই স্থান একসময় ছিল মুক্তচিন্তা, বিতর্ক ও সৃজনশীলতার উন্মুক্ত মঞ্চ।

 

সংস্কৃতিকর্মীদের মতে, সেই চেতনার সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থাপনার একটি দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। বড় আয়োজনের সুযোগ থাকলেও ছোট ও পরীক্ষামূলক উদ্যোগগুলো ক্রমশ সরে যাচ্ছে দূরে।

 

ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্তে সাময়িক স্বস্তি এলেও প্রশ্ন রয়ে গেছে, অশ্বিনীকুমার টাউন হল কি আবারও সবার জন্য উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসরে ফিরবে, নাকি সীমিত ব্যবহারের একটি ব্যয়সাপেক্ষ স্থাপনায় রয়ে যাবে?