নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা ভূমি অফিসে ডিসিআর (ডুপ্লিকেট চালান রেজিস্টার) ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক পেশকারের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ওই কর্মচারী আলী আজগরের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে শোকজ নোটিশ জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চান্দিনা ভিটির লীজমানি আদায়ের জন্য কয়েকটি ডিসিআর বহি পেশকার আলী আজগরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এসব বহির রশিদ ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৩০০ টাকা আদায় করলেও তা নির্ধারিত সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেননি। বরং কোনো প্রকার অনুমোদন বা কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করেই টাকা নিজের হেফাজতে রেখে আত্মসাতের চেষ্টা করেছেন।
আরও জানা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তিনি ডিসিআর বহি ব্যবহার অব্যাহত রাখেন, যা সরকারি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এদিকে, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের হার অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজস্ব আদায় ও জমার হিসাব পর্যালোচনা করতে গিয়ে ডিসিআর বহিতে আদায় ও জমার মধ্যে বড় ধরনের গরমিল দেখতে পান।
পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কা নিশ্চিত হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আসাদুজ্জামান অভিযুক্ত পেশকারের কাছে ব্যাখ্যা চান। তবে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ‘কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না’—এ মর্মে শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, আলী আজগর পূর্বে পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও জিয়ানগর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল । তবে সে সময় কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি একই ধরনের অনিয়ম পুনরাবৃত্তি করছেন বলে মনে করেন অনেকেই।
এ বিষয়ে দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশের কাউখালী উপজেলা শাখার উপদেষ্টা এডভোকেট জহুরুল ইসলাম বলেন, “ডিসিআর বহি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।”
কাউখালী ভূমি অফিসের এই অভিযোগ এখন প্রশাসনিক তদন্তের মুখে। তদন্তের ফলাফল এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে—এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা, নাকি দীর্ঘদিনের অনিয়মের অংশ। তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে সরকারি রাজস্ব খাতে বড় ধরনের ক্ষতির পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গতকাল ভূমি অফিসে পেশকার আজগর আলীরকে না পেয়ে আজ সকালে মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে জানান। কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ায় বিধি অনুযায়ী তাকে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।নোটিসের কোন জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। জবাব পাওয়ার পরে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।