নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের কাউখালী বন্দর হাট-বাজার ইজারা নিয়ে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন ইজারাদারের বিরুদ্ধে। তাঁদের কাছে পাওনা প্রায় ৬০ লাখ টাকা গত পাঁচ বছরেও আদায় করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন। বকেয়া আদায়ের লক্ষে মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও আইনি জটিলতায় পাওনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৪২৭ বঙ্গাব্দে ৬০ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ টাকায় বাজারটি ইজারা পান তৎকালীন জাতীয় পার্টির নেতা শাহ আলম নসু। তিনি আংশিক টাকা জমা দিয়ে পুরো বছর খাজনা তুললেও বাকি অর্থ পরিশোধ করেননি। তাঁর কাছে এখনো ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ টাকা পাওনা রয়েছে। ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা (নং- ১/২০২১) করা হলেও বর্তমানে তিনি পলাতক।

 

 

১৪২৮ বঙ্গাব্দে ইজারা পান হারুন অর রশিদ খান। আংশিক টাকা জমা দিয়ে বাকি ৩৫ লাখ ৭৪ হাজার ১ টাকার বিপরীতে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তাঁর কাছে ২৪ লাখ ২৪ হাজার ১ টাকা বকেয়া রয়েছে। হারুন অর রশিদ খান জানান, করোনাকালে বাজার বন্ধ থাকায় তিনি মওকুফ চেয়ে আবেদন করেছিলেন এবং বিষয়টি এখন আদালতে রয়েছে।

 

 

অন্যদিকে, ১৪২৯ বঙ্গাব্দে ইজারা পাওয়া মোহাম্মদ নাঈমুল ইসলামের কাছে ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় ২০২৩ সালে মামলা (নং- ১/২০২৩) করা হয়। বকেয়া আদায় না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

 

 

গ্রীনফোর্স বাংলাদেশ কাউখালী শাখার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সরকারের এই বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায় আরও দীর্ঘসূত্রতায় পড়বে।

 

 

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ইতোমধ্যে দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেওয়া হয়েছে। অন্যজনের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায়ে আমরা সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।