নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারী বৃষ্টির ফলে মাঠের ধান কাটা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াসা। যথা সময়ে ধান কেটে ঘরে তোলা হচ্ছে না কৃষকের। কুমিল্লার বহু উপজেলায় পানিতে তলিয়ে গিয়েছে ধান ক্ষেত, বরুড়া, লাকসাম, মনোহরগন্জ, চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট ও লালমাই সহ প্রায় উপজেলার ধানের জমির একই অবস্থা।

 

 

কালবৈশাখী ঝড়ের কবলেও পরেছে মাঠের ফসলি জমির ধান ও অন্যান্য ফসল। ভারী বৃষ্টি কমেছে দু’দিন হলো তারমধ্যে ফসলের মাঠের ধান কাটা নিয়ে শুরু হয়েছে তোরজোড় কিন্তু এরই মধ্যে শ্রমিকের অধিক দামের কারনে নিরোসাৎহীত হয়ে পরেছেন কৃষকরা।

 

এরই মধ্যে কুমিল্লা বৃহত্তর শ্রমের বাজার বিজয়পুরে গুরে এসেছেন রূপসী বাংলার সাংবাদিক মাসুদ রানা তিনি জানান, গত দুই দিনের তুলনায় শ্রমিকের দাম বেড়েছে কয়েকগুন। গত বহস্প্রতিবার গৃহস্থালি কাজের জন্য ১১০০-১৩০০ টাকা পর্যন্ত ছিল প্রতি শ্রমিকের দাম। কিন্তু শুক্রবার তা ১৫০০-১৬০০ টাকা হয়ে গিয়েছে। এতে, ক্ষুদ্ধ হয়ে কামাল হোসেন নামক একজন কৃষক বলেন, বাজারে ধান বিক্রি করতে গেলে মণ ৮০০-১০০০ টাকা বিক্রি করা লাগে যা শ্রমিকের দামের অর্ধেক তাহলে ধান করে লাভ কি? কষ্টে কষ্ট করমু কোন প্রকার লাভ হবে না। এই হচ্ছে আমাদের কৃষকের কপাল।

 

সপ্তাহে শুক্রবার লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজারে বসে ধানের বিশাল হাট এতে, দূরদূরান্ত থেকে গৃহস্থালি ধান বেচতে আসেন কৃষকেরা। বাজারের ধান ব্যবসায়ী ফজলুল হক বলেন, আজকে অধিক ধান কিনেছি সর্বনিম্ন ৮০০ টাকা দরে এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা দর পর্যন্ত ছিল বাজার।

 

একই বাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়েছেন আমিন মিয়া নামক একজন কৃষক রাগে ক্ষোভে ধান বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি৷ সৃজনে বীজতলার টাকা, পানি সেচের টাকা, রোপনে অধিক খরচ এবং কীটনাশকের ব্যবহার সহ অধিক টাকা খরচ করেও ধান কাঁটতে শ্রমিকের অধিক দাম দিয়ে উল্টো আরো ঘাটতি দিতে হচ্ছে। তাছাড়া, বাজারে ধানের দামও কম! আগামীতে ধানের চাষ না করে চাউল কিনে খাবেন বলেও জানান তিনি।

 

মাঠে ফসল করতে গিয়ে ক্লান্ত শরীর নিয়েও প্রতিনিয়ত কাজ করেন কৃষক, কিন্তু উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় ফসল বিক্রির দাম কম হওয়াতে, দিনদিন স্বপ্ন হারাচ্ছেন গ্রামের গৃহস্থালি পরিবারগুলো। এইবার ধান কাটতে শ্রমিকের অধিক দামের কারনে আগামীতে কৃষকের সংখ্যা কমার আশংকা করছেন বিশ্লেষকগন। এতে, সরকার যদি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে শহরের মতো গ্রামেও তার প্রভাব পরবে এবং কোন ভাবেই কৃষকের সংখ্যা স্থীর রাখা সম্ভব হবে না।