নিজস্ব প্রতিবেদক : ঝালকাঠিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৬ হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান এখন পানির নিচে। ধার-দেনাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে আবাদ করা ধান ঘরে তুলতে কৃষকরা এখন দিশেহারা।

 

মাঠে মাঠে সোনার ধান দেখে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় ঝালকাঠির কৃষকদের মুখে ফুটেছিল হাসি। কিন্তু তা এখন কান্নায় পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট ঝড়, ভারি বৃষ্টি এবং অস্বাভাবিক জোয়ার তাদের সে হাসি কেড়ে নিয়েছে।

 

 

কৃষকরা জানিয়েছে, এ বছর বোরো আবাদের শুরু থেকেই চাষ খরচ এবং সার, ঔষদের মূল্য বৃদ্ধিতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। ধারদেনা করে এমন প্রতিকূলতার মধ্যে আবাদ করা সফল এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে। যা তোলা সম্ভব হয়েছে তার অবস্থাও ভাল নেই। তার ওপর শ্রমিক সংকটে সেই ফসল ঘরে তোলা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের ঘরে ঘরে হাহাকার।

 

ঝালকাঠি সদরের বাসন্ডা গ্রামের কৃষক মো. শাহ আলম বলেন, এবছর ডিজেলসহ সব কিছুই বেশি দামে কিনতে হয়েছে। ধার-দেনা করে ফসল আবাদ করেছি। ফলন দেখে ভেবেছিলাম ভালই লাভ হবে। কিন্তু পাকাধানে মই দেয় অসময়ের বন্যা। ধান ঘরে তোলার পর দেখছি বেশির ভাগ ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।

বেশাইনখান গ্রামের নারী কৃষক রেহেনা বেগম বলেন, বন্যা-বৃষ্টিতে ডুবে থাকা ধান এখন তাড়াহুড়ো করে কাটতে হচ্ছে। বাড়তি মজুরি দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না শ্রমিক।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) মো. রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর জানায়, অর্ধেক পরিমাণ ফসল কর্তন এখনও শেষ হয়নি। শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরিমাপ করা যাচ্ছে না।

তবে জমিতে থাকা ধান দ্রুত কর্তন করতে কৃষকদের পরামর্শ ও যান্ত্রিক সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, চলতি মৌসুমে ঝালকাঠি জেলায় ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়, যা থেকে ৫৯ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।