নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার পাথরঘাটায় হেফাজতে নিয়ে নাঈম নামে এক কিশোরকে নির্যাতনের অভিযোগে কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. সুজাউদ্দিন মাহমুদসহ অজ্ঞাত ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বরগুনার পুলিশ সুপারকে (এসপি) এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রোববার (১০ মে) দুপুরে বরগুনার পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. পনির শেখ এ আদেশ দেন।

 

আদেশে আগামী মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল ৪টার মধ্যে মামলা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতকে লিখিতভাবে অবহিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মুবিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় পাথরঘাটা পৌরসভার পোস্ট অফিসের সামনে থেকে মো. নাঈম নামে এক কিশোরকে ইয়াবাসহ আটকের তথ্য জানায় কোস্টগার্ড। আটকের পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) নাঈমকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় আদালতের কাছে কোস্টগার্ডের হেফাজতে থাকা অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করে নাঈম।

আদালত নাঈমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অমানুষিক নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পান। পরে এসব নির্যাতনের ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে নাঈমকে চিকিৎসার জন্য পাঠান আদালত। ওইদিন নাঈমের জবানবন্দিও গ্রহণ করা হয়। এতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হয় বলে আদালত আদেশে উল্লেখ করেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে হেফাজতে নির্যাতন করা হলে বা মৃত্যু ঘটানো হলে, যা ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩’-এর ২ ধারার অধীনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট এই আইনের ৪ (১) ধারা অনুযায়ী তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করে অনতিবিলম্বে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করবেন। একই আইনের ৫ (১) ধারা অনুযায়ী পুলিশ সুপারকে মামলা রুজু করতে নির্দেশনা প্রদান করতে পারবেন। এই আইন অনুযায়ী বরগুনার পুলিশ সুপারকে মামলা রুজু করতে নির্দেশনা প্রদান করেছেন আদালত।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. সুজাউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’

অন্যদিকে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদার সরকারি ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।