নিজস্ব প্রতিবেদক : নানা অজুহাতে বরিশালে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এখন সাধারণ মানুষকে যথেষ্ট কষ্ট দিচ্ছে। সাম্প্রতিক জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির রেস ধরে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে অনেক পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সাথে সাম্প্রতিক অতি বর্ষণে কৃষি সেক্টরে প্রায় ২শ কোটি টাকার ক্ষতির হাত ধরে বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ ঘাটতিতে আরেক দফা মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে আরো বৃদ্ধি করেছে।

এমনকি এখন কাঁচা বাজারে হাত দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সব ধরনের সবজির দামই এখন বেজায় চড়া। বরিশালের বাজারে শশা বিক্রি হচ্ছে ১শ টাকা কেজি। বেগুন ৮০ টাকা। প্রতিটি সবজির মূল্য ক্রমে আকাশ ছুঁতে চলেছে। সাম্প্রতিক অতি বর্ষণে বরিশালে প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতির সাথে মূল্য বৃদ্ধিও ঘটছে সমান তালে। মাছের বাজার কয়েক দফা বৃদ্ধির পরে কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম গত ১৫ দিনে দু দফায় বেড়েছে।

 

অপরদিকে গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজ ও গোল আলুর দামও প্রায় ৩০ ভাগ বেড়েছে। সোমবার বরিশালের খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা এবং গোল আলু ২৫ টাকা কেজি দরে। ভোজ্যতেল নিয়ে আরো সংকট তৈরি হয়েছে। ২শ টাকার নিচে এখন আর ভালো মানের সয়াবিন তেল মিলছে না।

 

ফলে সংসার খরচ নিয়ে বরিশালের সাধারণ মানুষ এখন খুবই কষ্টে আছেন। বরিশালের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ জানান, ‘অতি সম্প্রতি ডিজেলসহ সব জ্বালানির মূল্য ১৫-২২ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধিকে পুঁজি করে সব নিত্যপণ্যের দামই ইতোমধ্যে ২৫-৩৫ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা প্রশ্ন রাখেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে ডিজেল ১২০ টাকা লিটার ছিল, পরে তা ক্রমান্বয়ে ১শ টাকায় হ্রাস পায়। কিন্তু লিটার প্রতি ২০ টাকা মূল্য হ্রাসের পরে পরিবহন ভাড়াসহ কোনো পণ্যের দাম তখন কমেনি।

এখন ডিজেলের মূল্য ১৫ ভাগ বৃদ্ধির পরেও আওয়ামী লীগ সরকারের সম পর্যায়ের নিচেই রয়েছে। কিন্তু সদ্য এ মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিকে পুঁজি করে পরিবহন সেক্টরসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিরূপ প্রভাব ক্রমে সহনীয় পর্যায়ের বাইরে চলে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে এ লক্ষ্যে জরুরি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন।

 

অপরদিকে এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে বরিশালের সব থ্রি-হুইলারেও ২৫-৩৫ ভাগ পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। এমনকি বরিশাল মহানগর পরিবহনের গ্যাসচালিত সব থ্রি-হুইলারের ভাড়াও ৩৩ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে চালকরা। সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন বা বিআরটিএ এসব বিষয়ে কিছুই জানে না। ফলে এ মহানগরীর পথে পথে প্রতিদিন যাত্রীদের সাথে বচসা লেগেই আছে।