আন্তার্জাতিক ডেস্ক : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ওপর নিজের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা ও অনাস্থা প্রকাশ করলেও ট্রাম্প তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন।
গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের প্রশংসা করে বলেন, “তারা চমৎকার কাজ করছেন। গত মাসে ইরানে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে তাদের ভূমিকা ছিল অনবদ্য। আমি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অন্য কাউকে ভাবছি না।”
এর আগে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এক শুনানিতে অভিযোগ করেন, পাকিস্তান তাদের বিমানঘাঁটিতে ইরানের সামরিক সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখার সুযোগ দিচ্ছে যাতে মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলা থেকে সেগুলো রক্ষা পায়। গ্রাহাম সরাসরি বলেন, “আমি পাকিস্তানকে একদমই বিশ্বাস করি না। যদি তারা ইরানকে এভাবে সহায়তা করে, তবে তাদের মধ্যস্থতাকারী হওয়ার কোনো যোগ্যতা নেই।”
তবে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ এবং শীর্ষ মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে সম্প্রতি ইরান কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়ায় আলোচনার গতি কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই মন্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে পাকিস্তানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।