নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল মহানগরী জুড়ে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমসহ নগরীকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলার পাশাপাশি নাগরিক সুবিধাসমূহ উন্নয়নের সাথে কতিপয় অবৈধ দখলদারদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সব অর্জনই ম্লান হতে চলেছে। বাড়ছে নগরবাসীর হতাশাও।
নতুন প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগরী জুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেন। ফলে নগরীর অনেক এলাকায় গত দশ বছরেও নগর ভবনের হাত না পড়লেও সেসব স্থান থেকে আবর্জনার ভাগাড় পরিষ্কার হয়েছে ইতোমধ্যে। নগরীর বেল পার্ক, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, স্বাধীনতা পার্ক, ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন শতায়ু অঙ্গন ও নবগ্রাম রোড-চৌমহনী লেকের পাড় থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা টেকসই হচ্ছে না।
বেল পার্কের অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে দেওয়া হলেও তারা একটু পশ্চিম পাশেই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বাসভবন থেকে জেলা জজের বাসভবনের গেটের দু পাশে দখল নিয়েছে। তবে নগর প্রশাসক এসব অবৈধ দখলদারদের জন্য বিকল্প স্থান খুঁজে তাদের পুনর্বাসনেরও চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
নবগ্রাম রোড-চৌমহনী লেকের পাড় থেকে সব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার পরে নগরীর সাধারণ মানুষ অনেকটাই হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলেন। প্রশাসকের এ সাহসি পদক্ষেপের প্রশংসাও করেছেন সবাই। এমনকি লেকটির মাঝে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আলোক-শব্দের ফোয়ারাও স্থাপন করা হয়েছে। যা দেখতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসছেন।
কিন্তু নগর ভবনের সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে ইতোমধ্যে দখল নিতে শুরু করেছে অবৈধ দখলদাররা। একটি দুটি করে ইতোমধ্যে শতাধিক দোকান প্রতিদিন সন্ধ্যার আগেই পসরা সাজিয়ে বসছে লেকটির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ে। এমনকি উত্তর-পশ্চিম কোণার যেসব অবৈধ দখলদাররা সরে গিয়েছিল, তারাও ফিরে আসতে শুরু করেছে। ফলে নগর প্রশাসকের আলোক-শব্দের ৮টি রঙের দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা ইতোমধ্যে ঢাকা পড়তে শুরু করেছে অবৈধ দোকানের আড়ালে।
একদিকে নগর ভবনের সড়ক পরিদর্শকদের স্বেচ্ছা অন্ধত্বের সাথে রহস্যঘেরা উদাসীনতা, অপরদিকে সুযোগসন্ধানী অবৈধ দখলবাজরা ওৎ পেতে থেকে সময়-সুযোগের সদ্ব্যবহার করে জায়গা বুঝেই পসরা নিয়ে বসে পড়ায় এ নগরীকে আবার নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, বাইরের জেলা-উপজেলা থেকে আসা এসব অবৈধ দখলবাজরা এ নগরীর পরিচ্ছন্ন পরিবেশকে ক্রমাগত গিলে খাচ্ছে। এরা উন্নয়নের পরিবর্তে এ নগরীকে পেছনে ঠেলে দিচ্ছে।
ফলে গত আড়াই মাসে নগর প্রশাসক এ নগরী ও নগরবাসীর স্বার্থে যেসব ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, তার অনেকটাই ম্লান হতে চলেছে এসব অবৈধ দখলদারদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে।
তবে এক্ষেত্রে নগর ভবনের পরিদর্শকদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন নগরবাসী। প্রয়োজনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন নগরীর আমজনতা। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এ নগরীতে যারা কর দেয় তাদের নাগরিক সুবিধা কেড়ে নিচ্ছে এমন এক শ্রেণির মানুষ, যারা কখনো কর দেয় না। এমনকি তাদের বেশিরভাগ এ নগরীর বাসিন্দাও নন।