নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: রংপুরের মিঠাপুকুরে চালককে হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মিশুক ভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের এক নারী সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। গত রবিবার (১৪ জুন) রাতে উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের কয়েরমারী এলাকায় এ দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটে।

আটক নারী ছিনতাইকারী আপি বেগম (২৬) উপজেলার আলীপুর নয়ারহাট গ্রামের মোঃ লোকমান হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত মিশুক চালক মোঃ আক্তার হোসেনকে (৩৮) আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত ৮টার দিকে বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সেরুডাঙ্গা বাজার থেকে আটক নারীসহ তিন ছিনতাইকারী যাত্রী বেশে আক্তার হোসেনের মিশুকে ওঠেন। গাড়িটি বালারহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে কয়েরমারী গ্রামের উল্লাগাড়ী পাথারের বটগাছের নিচে পৌঁছামাত্রই ছিনতাইকারীরা চালকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে অতর্কিত আঘাত করে।

চালক আক্তার হোসেন নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে ছিনতাইকারীরা ধারালো ছোরা দিয়ে তার মাথা, ঘাড় ও বাম হাতের আঙুলে উপর্যুপরি কোপায়। রক্তাক্ত অবস্থায় চালকের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেন।

প্রায় ৪০০ গজ দূর থেকে ছিনতাই হওয়া মিশুক গাড়িটিসহ নারী ছিনতাইকারী আপি বেগমকে হাতেনাতে ধরে ফেলে জনতা। তবে সুযোগ বুঝে তার অপর দুই সহযোগী মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৩৩) ও মোঃ রিয়াদ (২৩) পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এদিকে নারী ছিনতাইকারী আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আটক নারীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক মাস ধরে মিঠাপুকুর উপজেলায় ধারাবাহিক অটো ও মিশুক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছিল। পুলিশের একাধিক টিম মাঠে থাকলেও এই চক্রটিকে ধরা যাচ্ছিল না। এই নারী সদস্য আটকের পর এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহমেদ জানান, আটক নারী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অটো ও মিশুক ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত।

ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।