ডেস্ক সংবাদ : দেশের অধিকাংশ স্থানে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বৃষ্টিপাত বাড়লেও আপাতত অস্বস্তিকর গরম থেকে খুব বেশি স্বস্তি মিলছে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত লঘুচাপের বর্ধিতাংশ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র এটি দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রথম দিনে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে মানিকগঞ্জ, নীলফামারী ও রাজশাহী জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১৮ জুন থেকে বৃষ্টিপাতের পরিধি বাড়তে পারে। ওই দিন রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বৃষ্টির পরও ভূপৃষ্ঠের তাপ দ্রুত কমছে না। তাপ সঞ্চিত থাকা মাটি এবং নগর এলাকার কংক্রিটের কাঠামো বৃষ্টির পর আবার দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় সুপ্ত তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিবেশকে আরও উষ্ণ অনুভব করায়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে মানুষের শরীর থেকে ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। এ কারণে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় বেশি গরম অনুভূত হয়।

চলতি বছর স্বাভাবিক সময়ের অন্তত এক সপ্তাহ পর দেশে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে। এখন তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রার বৃষ্টিপাত এখনও শুরু হয়নি। ফলে বৃষ্টি ও রোদের পালাবদলের মধ্যেই ভ্যাপসা গরম অব্যাহত রয়েছে।