রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু: ৫ আগষ্টের পটপরিবর্তনের পর ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও পৌরসভার নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বড় ধরনের একটি সংকট সৃষ্টি হয়| সেবা প্রার্থীরা পড়ে যায় নানারকম বিপাকে| ইন্টারিম গভর্নমেন্ট তড়িগড়ি করে প্রশাসক নিয়োগ দিয় কার্যক্রম সচল করেন| ফলে কিছুটা হলেও সংকট কেটে যায়| কিন্তু জনগনের দোড়দোগড়ায় সেবা পৌছাতে ব্যর্থ হয়েছেন এসব প্রশাসকগন| নিজ নিজ অফিসের দায়িত্ব পালনের পর অতিরিক্ত  দায়িত্ব সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে|

এব্যপােের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রবিবার সাংবাদিকদের জানান, বর্ষা মৌসুম শেষে ডিসে¤^রের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে| তবে এবার নির্বাচনে হবে দলীয় প্রতিকের বাহিরে|

অনুসন্ধান করে জানা যায়, ইতিমধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনী হাওয়া মাঠে বইছে| মাঠে ময়দানে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে  বিএনপি জামাত ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মাঝে| পোস্টার ব্যানার ও ফেস্টুনে সয়লাব হয়ে গেছে শহর বন্দর ও গ্রামাঞ্চল|

চায়ের দোকানে আলোচনার বিষয়বস্তু কে হবেন প্রার্থী কার কি যোগ্যতা এবং দলীয় সাপোর্ট পাওয়ার সম্ভাবনা কার বেশি এ নিয়ে চলছে জল্পনপ কল্পনা ও চুলছেড়া বিশ্লেষণ| ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলায় ১০টি, নলছিটি উপজেলায় ১১টি ৬টি এবং ৬টি  ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে| জেলায় সর্বমোট ইউনিয়ন  ২৩ টি আর পৌরসভা ২টি|এতে প্রায় ২০০ শতাধিক প্রার্থী রয়েছে বলে দারনা করা হয় এবং তারা প্রচার প্রচারণ শুরু করে দিয়েছে|

এবিষয়ে ঝালকাঠি জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে আমরা আলাপ আলোচনা চালাচ্ছি| দল থেকে একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হবে| একই জায়গায় একাধিক প্রার্থী থাকলে জিতে আসতে কষ্ট হতে পারে| তাই  আমরা একজন প্রার্থী বাচাই করার জন্য সকলের সাথে পরামর্শ করছি|

জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট হাফিজুর রহমান মুঠোফোনে জানান, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি| অনেক ইউনিয়নে ইতিমধ্যে প্রার্থী বাছাই করে সমর্থন দিয়েছি| বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ˆনতিকা ও যোগ্যতার মাপকাঠি নির্নয় করা হয়েছে|

জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এডভোকেট আনোয়ার হোসেন আনু মুঠোফোনে জানান, “দলের হাই কমান্ড থেকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা এখনও আসে নাই| তবে দলের কেউ কেউ নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করছে| আমার ব্যক্তিগত ধারনা, নির্দলীয় নিরপেক্ষভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না| এবারও সরকার দলীয় প্রার্থীদের প্রভাব ও দাপট নির্বাচনী মাঠে লক্ষ্য করা যাবে| জাতীয় পার্টির হাই কমান্ড এর নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা জাতীয় পার্টি কার্যক্রম পরিচালনা করবে| তবে তিনি দল নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের কাছে দাবী জানান|

এদিকে বিএনপি’র জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যাযের নেতাকর্মীরা প্রার্থী হওয়ার জন্য দেওড়ঝাঁপ শুরু করেছে| বড় নেতাদের আশির্বাদ পাওয়ার জন্য লবিং তদবীর শুরু হয়ে গেছে| এমপিদের সাথে দলবেঁধে অনেকইে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটু আশির্বাদ পাওয়ার লক্ষ্যে| প্রার্থী হিসেবে দোয়া চেয়ে গাছের মগডালে ব্যানার, ফেস্টুন , দেয়ালে দেয়ালে রঙিন পোস্টার সাঁটিয়ে নির্বাচনী আমেজ ˆতরি করতে দেখা যাচ্ছে|