নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার তালতলীতে বাঁধঘাট থেকে বগীর হাট পর্যন্ত ৯ দশমিক ৭ কিলোমিটার সড়কের প্রশস্তকরণ ও সংস্কারকাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। নির্মাণকাজের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক খুঁড়ে ফেলে রাখায় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রতিবাদে এবং দ্রুত সড়ক নির্মাণের দাবিতে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেছেন শতাধিক অটোরিকশা চালক।

 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে তালতলী উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে গিয়ে অটোরিকশা চালকরা বিক্ষোভ করেন এবং অবিলম্বে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করে নিরাপদে যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান। এর আগে মঙ্গলবার সকালে একই সড়কের একটি বড় গর্তে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির হাত ভেঙে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

 

বাঁধঘাট-বগীর হাট সড়কটি তালতলী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষের জেলা সদর বরগুনায় যাতায়াতের একমাত্র প্রধান সড়ক। প্রতিদিন রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। সড়কটির পাশে একটি কলেজ, একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ অসমাপ্ত থাকায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় দুর্ঘটনার কারণে তারা আহত হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না।

 

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছোটবগী থেকে তালতলী বাঁধঘাট পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের জন্য ১৪ কোটি ৫৩ লাখ ৯৪ হাজার ১০৫ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ কাজ শুরু করে। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনও কাজ শেষ হয়নি।

 

একাধিক অটোরিকশা চালক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আজও একজনের হাত ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পরিবহন করতে হচ্ছে। দ্রুত সড়কটির কাজ শেষ না হলে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা জাকারিয়া বলেন,বর্ষা মৌসুমে সড়কের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির পানিতে গর্তগুলো ঢেকে যাওয়ায় চালকদের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না। এতে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

 

অটোরিকশা চালক সুমন বলেন, ধীরগতির নির্মাণকাজের কারণে বাঁধঘাট-বগীর হাট সড়কটি এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ না হলে অটোরিকশা চালকরা কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি করতে বাধ্য হবেন।

 

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে বৃষ্টি কমলেই সড়কের খানাখন্দগুলো সাময়িকভাবে মেরামত করা হবে। পাশাপাশি দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।