নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনা সদর উপজেলার এম. বালিয়াতলী ও বুড়িরচর ইউনিয়নের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু পুষ্টি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘আলোকিত’ প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টায় বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ফুড ফর দ্য হাঙ্গরি কানাডা’র সহযোগিতায় এবং জাগোনারী বাস্তবায়নে এ সভার আয়োজন করা হয়।

জাগোনারীর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর গোলাম মোস্তফা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ্ আজিজ।

সভার শুরুতে প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম, বাস্তবায়ন কৌশল ও প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তারা। পরে অংশগ্রহণকারীদের মতামত, পরামর্শ ও উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও যুব প্রতিনিধিরা।

সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জীবিকা উন্নয়ন, নারীর নেতৃত্ব বিকাশ, শিশু পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন এবং যুবসমাজকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্পৃক্ত করার মতো উদ্যোগ সময়োপযোগী। তবে প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ্ আজিজ বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা বলেন, আলোকিত প্রকল্পের মাধ্যমে বরগুনা সদর উপজেলার এম. বালিয়াতলী ও বুড়িরচর ইউনিয়নের জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকা উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু কল্যাণ এবং যুব নেতৃত্ব বিকাশে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে আরও আত্মনির্ভরশীল ও দুর্যোগ-সহনশীল হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।