তরিকুল ইসলাম, ভাণ্ডারিয়া প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ৪ নম্বর ইকড়ি ইউনিয়েনের বোথলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের না জানিয়ে গোপন রেজুলেশন এবং ভুয়া আয়-ব্যয়ের হিসাব পাসের চেষ্টার অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সকালে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে আংশিক রেজুলেশনে শিক্ষকদের স্বাক্ষর নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সাধারণ শিক্ষদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি নিজ কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সাবেক প্রধান শিক্ষক আঃ খালেক অবসর গ্রহণ করার পর থেকে শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত ২০ মাসের বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব তিনি শিক্ষকদের দেননি। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলে ওই ২০ মাসের হিসাব বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছ থেকে অনুমোদন করানোর উদ্যোগ নেন তিনি।

এরই অংশ হিসেবে রবিবার সকালে তিনি বিদ্যালয়ে এসে বর্তমান ক্যাশিয়ার দেবাশিষ সমদ্দারের পদত্যাগ এবং নতুন ক্যাশিয়ার নিয়োগ সংক্রান্ত আংশিক লেখা রেজুলেশন নিয়ে আসেন এবং শিক্ষকদের স্বাক্ষর গ্রহণ শুরু করেন।

সহকারী শিক্ষক তাজিনুর বেগম জানান, সকালে বিদ্যালয়ে আসার পর ক্যাশিয়ার পরিবর্তনের কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে আংশিক লেখা রেজুলেশনে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। কয়েকজন শিক্ষক স্বাক্ষর করার পর দেখা যায়, রেজুলেশনের ফাঁকা অংশে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব লেখা হয়েছে। বিষয়টি অন্যান্য শিক্ষকরা দেখতে পেলে তারা সবাই মিলে ওই রেজুলেশন বাতিলের দাবি জানান। পরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে অবস্থান করেন।

সহকারী শিক্ষক শিশির কুমার জানান, সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি সবাইকে জানালে শিক্ষকরা একজোট হয়ে প্রতারণামূলক ওই রেজুলেশন বাতিলের দাবি জানান। প্রতিবাদের মুখে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজুলেশন বাতিল করতে অস্বীকৃতি জানান এবং সকাল ১১টার দিকে নিজ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আংশিক রেজুলেশনে আমাদের স্বাক্ষর নিয়ে সেখানে গোপনে আয়-ব্যয়ের হিসাব লিখে আমাদের সাথে প্রতারণা করতে চেয়েছিলেন। আমি প্রথম বিষয়টি ধরে ফেলি। তিনি আমাদের ফাঁসিয়ে নিজে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন।

বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পরও তিনি বের না হওয়ায় শিক্ষক ও স্থানীয় এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দীর্ঘ অনশন ও চাপের পর সন্ধ্যার দিকে তিনি কক্ষ থেকে বের হন।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি রেজুলেশন নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারের দপ্তরে এসেছি। ফ্রি হয়ে ১ ঘণ্টা পর বিস্তারিত কথা বলব।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ হাসিবুল হাসান বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সোমবার উভয় পক্ষকে অফিসে ডাকা হয়েছে। তাদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।