রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু :  ঝালকাঠি একটি ছোট জেলা হলেও বড় বড় রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বে দেখেছে দেশবাসী। আওয়ামীলীগ এর শাসন আমলে ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু জেলার অঘোষিত রাজাধিরাজ ছিলেন। তার ইশারা ছাড়া গাছের পাতাও নড়তো না। তার প্রভাবের কারণে দলীয় কোন্দল দৃশ্যমান ছিল না। একক সিদ্ধান্তে ঝালকাঠির রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত ছিল। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস সেই রাজাধিরাজ ফ্যাসিবাদী শাসনের কারনে বর্তমানে জেলে আছেন।
২০০১ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর। ঝালকাঠি বিএনপির রাজনীতি তিনিই নিয়ন্ত্রণ করতেন। তিনি ঝালকাঠি বিএনপিকে সুসংগঠিত না করে গ্রুপিং রাজনীতির জন্ম দিয়েছিলেন। সেই থেকে অদ্যাবধি ঝালকাঠির রাজনীতিতে গ্রুপিং চলমান রয়েছে। সুবিধাবাদী শাহজাহান ওমর বিএনপির সাথে বেঈমানি করে ২০২৪ সালে আওয়ামীলীগে যোগদান করে নৌকা মার্কার টিকিটে নির্বাচন করেন। তিনি আওয়ামীলীগে গেলে জেলার রাজনীতির শক্ত হাতে হাল ধরেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন।
আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ময়দানে সরব ভুমিকা পালন করেন। তবে শাহজাহান ওমরের রেখে যাওয়া গ্রুপিং রাজনীতির অবসান ঘটাতে পারেন নাই তিনিও। বরং গ্রুপিং রাজনীতি তীব্রতর হয়ে ওঠে। তিনি দলীয় টিকিট দাবি করলে প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল। একসময় রফিকুল ইসলাম জামাল ও এডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন এক জুটি ছিলেন।
পরবর্তীতে নান্নু জামাল জুটি বাঁধেন এবং অপর দিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য জীবা আমিনা খান ও শাহাদাৎ হোসেন ঐক্যবদ্ধ হোন। এভাবে ঝালকাঠির শীর্ষ নেতারা তিনভাগে বিভক্ত হয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন কররছেন। ফলে তৃণমূলের কর্মীরা পড়েছে বিপাকে। শ্যাম রাখি না কুল রাখি এমন অবস্থা। ফলে জেলা বিএনপির রাজনীতি দ্বিধা বিভক্ত হয়ে রাজনৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। কর্মীদের মাঝে দল ক্ষমতায় আসার পর হতাশা ও ক্ষোভ বাড়তে দেখা যায়। কেউ কেউ বলছেন দল ক্ষমতায় আসার আগেই ভালো ছিলাম। দলের কাছে তখন মূল্যায়ন ছিল কিন্তু এখন কোন মূল্যায়ন পাচ্ছি না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ঝালকাঠির কয়েকজন নেতা ঠিকাদারি কাজ প্রভাব খাটিয়ে করছেন।
জিএস জাকির, সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলন, হাফিজ, কামাল শরীফ, সুরুজ চেয়ারম্যানের বিগত দিনে টেন্ডার হওয়া ঠিকাদারি কাজ করছেন ৫/৭ জন বিএনপি নেতা। তাদের মধ্যে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতা রয়েছেন। বাকি নেতা কর্মীরা কিছুই পাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে জেলা বিএনপির রাজনীতিতে চরম সংকট পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।
এব্যাপারে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এস এম এজাজ হাসান বলেন, ‘দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকা ভালো তবে প্রতিহিংসা খারাপ। অচিরেই দলের টুকিটাকি সমস্যা সমাধানে করে গতিশীল হবে। ঝালকাঠি বিএনপির রাজনীতি সঠিক ধারায় চলছে এবং চলবে।
অপরদিকে খোশ মেজাজে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। তাদের দলের মধ্যে নাই কোন গ্রুপিং রাজনীতি। তারা ফাঁকা মাঠ পেয়ে কর্মী বৈঠক, টিসি- টিএস, সভা-সমাবেশ ভিতরে বাহিরে হরদমে চালিয়ে যাচ্ছে। সাথে সাথে রাজনৈতিক মাঠে বিএনপি কে মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুতিও গ্রহণ করছে তারা।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এডভোকেট বিএম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জামায়াতী ইসলামী দলের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও সুনির্দিষ্ট টার্গেট নিয়ে কাজ করছে। এখানে দলীয় কোন কোন্দল নাই। পদপদবি নিয়ে গ্রুপিং তদবির নাই। ঝালকাঠিতে সুশৃঙ্খলভাবে দলীয় কার্যক্রম চলছে।
ঝালকাঠি জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল হোসেন তুহিন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মীদের ধৈর্যধারণ করতে বলেছেন। তিনি আরো বলেন, তৃণমূলের সকল কর্মীদের পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে। তিনি ঝালকাঠি বিএনপির রাজনীতির বিষয়ে বলেন, ৫ আগষ্ট এর পূর্বের কর্মীরা যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছে না তবে হাইব্রিডদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা ভালো তবে প্রতিহিংসা ধ্বংস ডেকে আনে। ঝালকাঠির রাজনীতি ঢেলে সাজাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বপন, কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম জামাল ও সংসদ সদস্য ইসরাত জাহান ইলেন ভুট্টোর সমন্বয়ে জেলা বিএনপির কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জেলা বিএনপি শক্তিশালী হবে।’