নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনায় বেতাগীতে পল্লী বিদ্যুতের অস্বাভাবিক ও অসঙ্গতিপূর্ণ বিল নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ এমনকি তারও বেশি বিল আসার অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো গ্রাহকের অভিযোগ, প্রকৃত মিটার রিডিং না নিয়েই অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করা হচ্ছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকার বোঝা। বিষয়টি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

 

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লোডশেডিং থাকার পরও অনেকের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। নিয়মিত মিটার রিডিং সংগ্রহ না করে অনুমানভিত্তিক বিল তৈরির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।

 

স্থানীয় গ্রাহক জসিম উদ্দীন বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বেতাগী সাব-জোনাল অফিসের আওতাধীন তার সংযোগের মিটারে আগের রিডিং ছিল ১৮৫ ইউনিট। কিন্তু চলতি বিলে তা ৪৪০ ইউনিট দেখানো হয়েছে। ফলে আগের প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকার বিলের পরিবর্তে এবার তাকে ৩ হাজার ৯৪৬ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। অস্বাভাবিক এ বিল কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

 

বেতাগী বন্দরের ব্যবসায়ী রুবেল মল্লিক বলেন, ‘স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় অনেক গ্রাহকের দ্বিগুণ-তিনগুণ বিল আসছে। মিটার দেখে প্রকৃত রিডিং নেওয়ার পরিবর্তে অফিসে বসে অনুমান করে বিল তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

 

স্থানীয় একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেন, প্রকৃত মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের সামঞ্জস্য না থাকায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা প্রকৃত মিটার রিডিং যাচাই করে ভুল বিল সংশোধন এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

 

এদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ, গত মাসজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং থাকলেও অনেকের বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রাহকদের দাবি, মিটার রিডিং সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা জরুরি।

 

বিষয়টি নিয়ে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমিও প্রায়শই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসঙ্গতিপূর্ণ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ ও অভিযোগ দেখি। অনুমানভিত্তিক বিল তৈরি কোনোভাবেই কাম্য নয়। সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

অভিযোগের বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বেতাগী সাব-জোনাল অফিসের স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ব্যবহার বেশি হওয়া কিংবা মিটার রিডিংয়ে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তা সমন্বয় করা হবে।

 

এদিকে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অতিরিক্ত ও অসঙ্গতিপূর্ণ বিলের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত, প্রকৃত মিটার রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল সংশোধন এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনো গ্রাহককে অনুমাননির্ভর বিলের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।