নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষারয় এমসিকিউ প্রশ্নপত্র পূরনের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র সুপারের বিরুদ্ধে। দশমিনা উপজেলা এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র সুপার হলেন ডাঃ ডলি আকবর মহিলা কলেজের ইসলামী ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক প্রভাষক মোঃ মহিউদ্দিন।

 

জানা যায়,চলমান এইচএসসি কেন্দ্র হিসাবে ডাঃ ডলি আকবর মহিলা কলেজ দায়িত্ব পান। পরীক্ষার সময় সূচি অনুসারে আজ কৃষি   কৃষিশিক্ষা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা। ডাঃ ডলি আকবর মহিলা কলেজে মূল কেন্দ্র হিসাবে দুই টি কক্ষে এবং সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সাব সেন্টার হিসাবে এগারো টি কক্ষে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ডাঃ ডলি আকবর মহিলা কলেজে ১ নম্বর কক্ষে ঐ কেন্দ্র সুপারের মামার ছেলে যাহার রোল নম্বর ৪০৭২২৪।

 

কৃষি শিক্ষা দ্বিতীয় পত্রের  এমসিকিউ (গঈছ) পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ঐ কেন্দ্রের দুই কক্ষের এমসিকিউ উত্তর পত্র নিয়ে আসা হয় সব সেন্টার সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্যাকিং করার জন্য। ঐ সময় কেন্দ্র সুপার তার মামার ছেলে যাহার রোল নম্বর ৪০৭২২৪ এর এমসিকিউ উত্তর পত্র বের করে মোবাইলের কপি করে ভরাট করেন।

 

এ বিষয় অন্যন্য শিক্ষ-শিক্ষিকারা বিষয়টি দেখতে পেয়ে কেন্দ্র সচিবকে জানালে তিনি বিষয়টি এরিয়ে গিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হওয়া ছবিটি অনুযায়ী দেখা গেছে মহিউদ্দিন একটি টেবিলে বসে হাতে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে দেখে দেখে এমসিকিউ উত্তর পত্র ভরাট করছেন।

 

এ সময় ঘটনাটি প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত ছিলেন, ডাঃ ডলি আকবার মহিলা কলেজের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক, অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক লিপি খানন, শিপন ব্যানার্জি, রেশমা বেগম এবং কলেজের কয়েকজন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন।

 

এর পরে একপর্যায়ে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক বেলাল হোসেন  সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্র ও মোবাইল ফোনটি নিয়ে অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিবকে বিষয়টি অবহিত করেন। তবে বিষয়টি তদন্ত বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কেন্দ্র সচিব।

 

এছাড়া সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত কেন্দ্র সুপারের বিরুদ্ধে অতীতেও অনুরূপ অভিযোগ ছিল বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কেন্দ্র সুপার, কেন্দ্র সচিব বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

অফিসে অভিযুক্ত কেন্দ্র সুপার ও প্রভাষক মহিউদ্দিন বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, আমাদের মূল কেন্দ্র ছিল ডাঃ ডলি একবার মহিলা কলেজে, হল রুম সংকট থাকায় ছাব কেন্দ্র হিসেবে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র করা হয়।

 

আমরা প্রতিদিনই আমাদের কলেজে পরীক্ষার শেষে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দশমিনা হাই স্কুলে নিয়ে এসে প্যাকেট করে শিক্ষা বোর্ডে পাঠাই । তবে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং  উদ্দেশ্য প্রণীত হেয়  প্রতিপন্ন করার জন্য এ সকল কাজ করছে। আপন মামাত ভাই ডাঃ ডলি আকবর মহিলা কলেজে পরীক্ষা দেয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন পরীক্ষা দেয়।

 

এদিকে নাম প্রকাশ করা অনিচ্ছুক, এক প্রভাষক জানান,এইচএসসি পরীক্ষার হল সুপার মহিউদ্দিন স্যার সে প্রতিনিয়ত প্রায় সময় এমন ঘটনা ঘটে, তবে সে পরীক্ষার হল সুপার দেইখা আমরা কিছু বলতে পারি না, আজ তাকে হাতেনাতে আমাদের কলেজের শারীরিক শিক্ষা প্রভাষক বেলাল ভাই ধরে মোবাইলে পেপার নিয়ে গেছে।

 

পরে ঘটনা জানা জানি হলে আমাদের কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ স্যার বিষয়টি ধামাচাপা দেয়। এরই মধ্যে ওই ঘটনা কি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়েছে আমরা জানিনা। সত্য কখনো চাপা থাকে না তা আজকে প্রকাশ পেয়েছে। এদিকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এ বিষয়ে ডাঃ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব  মোঃ সোহরব হোসেন জানান, আজকে পরীক্ষা ছিল তবে তাদের রুম ও আমার রুম আলাদা থাকায় তেমন কিছু জানি না, তবে যেহেতু তার নামে একটি অভিযোগ উঠেছে তাকে আমি কেন্দ্র সুপার থেকে বহিষ্কার করব।

 

আপনাদের কাছে একটি রিকোয়েস্ট আপনারা মিডিয়া এটা প্রকাশ করিয়েন না। তাহলে আমাদের কলেজের ভাব মূর্তি নষ্ট করা হবে। বরিশার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান (প্রেষণে) প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে আপনার কাছে এই প্রথম শুনলাম, দপ্তরের যোগাযোগ করে অভিযোগ সত্য প্রমান হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এছাড়াও বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কেমন শিক্ষকদের অনৈতিক কার্যকলাপ আশ্রয় দেয় না। এবং দেবোও না।