অনলাইন ডেস্ক : বর্বরতা শেখ হাসিনার প্রিয় বিষয়। আর প্রতিটি গণহত্যায় কোনো না কোনোভাবে সংশ্লিষ্টতা লক্ষ করা যায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনের সাম্প্রতিক রহস্যময় ঢাকা সফর, ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য, ছোটাছুটিÑ সব কিছুকেই এখন দেশবাসীর সন্দেহের আওতায়। এখন দিল্লিদাসী হাসিনা বাংলাদেশের ক্ষমতায় নেই। তাকে দিল্লিতে রেখে গোয়েন্দা প্রধান কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেনÑ এ প্রশ্ন এখন সর্বত্র। হাসিনার শাসনামলের প্রতিটি বড় ঘটনা, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল ভারতের হাত। ক্ষমতার মোহে হাসিনা ভারত তোষণে নিজ দেশের নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে কোনো দ্বিধা করতেন না। তিনি ছিলেন রক্তপিপাসু।

তার এ চেহারার ভয়ঙ্কর প্রকাশ লক্ষ করা যায় ক্ষমতার বাইরে এবং ক্ষমতার মসনদে থাকা অবস্থায়। শেখ হাসিনা তখন বিরোধী দলের নেতা। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর। বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শেষ সময়। আ’লীগ ও সমমনা দলগুলো সমাবেশ করে পল্টনে ঘোষণা দিয়ে লগি-বৈঠার তা-ব চালায়। সাপের মতো পিটিয়ে হত্যা করে মানুষকে। লাশের ওপর নৃত্য করে আজকের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আ’লীগসহ কয়েকটি বাম সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। শেখ হাসিনার নির্দেশে সারাদেশে অন্তত ১৩ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ঘটে ভারত-মার্কিন যৌথ ‘ওয়ান-ইলেভেন সরকার’। ফখরুদ্দিন-মঈন ইউ আহমেদ সরকার হাসিনাকে ক্ষমতার মসনদে বসানোর গ্রাউন্ড সৃষ্টি করে দেন। ওই সময় (২০০৭-০৯) হাসিনাকে ক্ষমতায় বসাতে কাছা বেঁধে মাঠে নেমেছিল তৎকালীন ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী।

 

২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতার মসনদে বসে হাসিনা প্রথমেই ভেঙে দেন দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ওই বছর ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের নামে হত্যা করা হয় দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ৫৭ চৌকশ কর্মকর্তাকে। এর পর ‘জঙ্গিবাদ’ দমনের নামে হত্যা করে বহু নিরীহ ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে। বিডির পিলখানা সেনা হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে শেখ হাসিনা তখন নানা নাটক ফাঁদে। তবে সব নাটক উন্মোচিত হয় ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর দাখিলকৃত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদেনে। প্রতিবেদনে বিডিআর পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও মূল সুবিধাভোগী হিসেবে জোরালো প্রমাণ মেলে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তৎকালীন বিডিআর বাহিনীকে ধ্বংস এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটি সুদূরপ্রসারী বিদেশি চক্রান্তের অংশ ছিল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তদন্ত কমিশনের কাছে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীরা তখন ঘটনার সময়কালে ৯২১ জন ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন মর্মে উল্লেখ করেন। এদের মধ্যে পরবর্তীতে অন্তত ৬৭ জনের অবস্থান পরবর্তীতে শনাক্ত করা যায়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিডিআর পিলখানা ম্যাসাকারের সময় বেঁচে ফেরা কর্মকর্তারা জানান, ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড-এনএসজির অন্তত ২৪ জন কমান্ডো ছদ্মবেশে বিডিআর পিলখানায় সরাসরি অংশ নিয়েছিল। ঘটনার দিন পিলখানার ভেতর ইউনিফর্ম পরিহিত ব্যক্তিদের মধ্যে হিন্দি এবং পশ্চিমবঙ্গের বাংলা উপভাষায় কথোপকথন করতে দেখা ও শোনা যায়। পিলখানা ম্যাসাকারে বহিঃশক্তির উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কললিস্টে বেশ কিছু বিদেশি নম্বরে যোগাযোগ ট্র্যাক করে স্বাধীন তদন্ত কমিশন। বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আ. ল. ম. ফজলুর রহমান নেতৃত্বাধীন কমিশন ভারতকে এ হত্যাকাণ্ডের ‘প্রধান সুবিধাভোগী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা এবং সীমান্ত রক্ষা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দুর্বল করাই ছিল এর মূল্য লক্ষ্য। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ সম্পর্কের কথাও উঠে আসে। আ’লীগের শীর্ষ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, শেখ ফজলে নূর তাপস এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছিলেন মর্মে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ পরবর্তী সময়ে স্বীকার করেছিলেন, বাংলাদেশ (সেনাবাহিনী) যদি পিলখানায় তখন কঠোর অ্যাকশন নিত তাহলে ভারত সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করার হুমকি দিয়েছিল।

দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করার পর ভারত ও শেখ হাসিনার অভিন্ন টার্গেটে পরিণত হন ধর্মপ্রাণ নিরীহ মানুষ, মাদরাসা ছাত্র, জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ও আলেম-ওলামারা। বাংলাদেশ জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত হয়েছেÑ এমন একটি ধুয়া তুলে নিষ্ঠুর নির্যাতন ও হত্যা। নামাজি টুপি-দাড়ি-পাঞ্জাবি পরিহিত মানুষ মাত্রই তাকে ‘একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী’, ‘রাজাকার’ ও ‘জঙ্গি-তালেবান’ তকমা দিয়ে চালানো হতো অমানসিক নির্যাতন। হাসিনার গ্রেফতার-নির্যাতন থেকে বাদ যায়নি পর্দানসীন বোরকা পরিহিতা ও হিজাবধারী নারী। পুরো সময়জুড়ে শীর্ষ আলেমদের গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলায় কারাগারে প্রেরণ, আয়নাঘর তথা গোপন বন্দিশালায় নিয়ে করা হতো অকথ্য নির্যাতন। অনেক মসজিদের ইমাম ও খতিবকে ভারতীয় আধিপত্যবাদ, হাসিনা সরকারের সমালোচনার অপরাধে চাকরিচ্যুত করা হয়। কওমি মাদরাসা ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রশাসনিক ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এসবই হাসিনা করতেন প্রভুরাষ্ট্র ভারতকে তুষ্ট করার জন্য। নিজের ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ ও পাকাপোক্ত করার উদ্দেশ্যে।

হাসিনার শাসনামলজুড়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ ৫৮৮ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করে। ২০১১ সালের ৮ জানুয়ারি ১৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুনকে হত্যা করে সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখে ভারত। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি অনন্তপুর সীমান্তের কাঁটাতার পার হওয়ার সময় বিএসএফ সদস্য অমীয় ঘোষ ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনার কোনো বিচার হয়নি। সেই থেকে ভারতের সীমান্ত হত্যার মূর্ত প্রতীক হয়ে গেছে ফেলানী।

অভিশপ্ত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ, নদীমার্তৃক বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ৩৬টি নদীর উজানে ৫৪টির বেশি বাঁধ, ব্যারাজ ও ড্যাম নির্মাণ করে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করছে ভারত। এ ছাড়া ভারতের প্রতি হাসিনার নতজানু নীতি, অসম গোপন চুক্তি সম্পাদন, ট্রানজিট প্রদান, বিদ্যুৎ ক্রয়, সুন্দরবনে ‘রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র’ স্থাপন, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের অযাচিত হস্তক্ষেপ বাংলাদেশের মানুষকে দিনকে দিন ক্ষুব্ধ করে তোলে। গুজরাটের কসাই-খ্যাত নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলে হাসিনার ভারতপ্রীতি ওঠে তুঙ্গীয় উচ্চতায়। তখন সাম্প্রদায়িক মুসলিমবিদ্বেষী মোদি সরকারের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী হাসিনা দেশে ‘সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান’ ঠেকাতে নেমে পড়েন।

‘জঙ্গি’ দমনের নামে হাসিনা সরকার সপরিবারে হত্যা শুরু করে ধর্মপ্রাণ মানুষ ও মাদরাসা ছাত্রদের। বহু জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা, আলেম ও মাদরাসা ছাত্রদের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ধুয়া তুলে কারাগারে নিক্ষেপ করেন। দেশে কায়েম করেন এক ভয়াবহ, ভীতির সংস্কৃতি। রুদ্ধশ্বাস অবস্থার সৃষ্টি করে ২০১৪ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচন এবং ২০১৮ সালে রাতের ভোটে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতা পোক্ত করেন শেখ হাসিনা। নাস্তিক ব্লগারদের উসকে দেন। ব্লগারদের ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীর শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশ ডাকে হেফাজতে ইসলাম। সেই মহাসমাবেশে বর্বর গণহত্যা চালান শেখ হাসিনা। এতে ৬১ জন মাদরাসা ছাত্র, শিক্ষক ও ধর্মপ্রাণ মানুষ শহীদ হন। এ ঘটনায় দেশের সাধারণ মানুষ ও আলেম সমাজ ভারত ও হাসিনার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসতে থাকেন।

মোদিবিরোধী আন্দোলন ও গণহত্যার বিচার : ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর। বাংলাদেশ-ভারত মধ্যকার পানি ও গ্যাস চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। এ ঘটনায় তাকে ‘শিবিরকর্মী’ তকমা দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে অধুনালুপ্ত হাসিনার ‘ছাত্রলীগ’। এ ঘটনায় ভারত এবং হাসিনার প্রতি মানুষের ক্ষোভ তুঙ্গে ওঠে। এর রেশ না কাটতেই ২০২১ সালের মার্চে হাসিনার আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফরে আসেন নরেন্দ্র মোদি। হাজারো মুসলমানের রক্তে রঞ্জিত মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে দেশজুড়ে কর্মসূচি দেয় হেফাজতে ইসলাম। কর্মসূচি পালনকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাধে। এতে পুলিশের গুলিতে সারা দেশে ১৭ জন শাহাদাতবরণ করেন। আহত হন পাঁচ শতাধিক মানুষ। এর মধ্যে শুধু ব্রাহ্মবাড়িয়ায় নিহত হন ১২ জন। চট্টগ্রাম হাটহাজারিতে গুলি করে হত্যা করা হয় আরো চারজনকে। নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় নিহত হন একজন। মোদির প্রতি আনুগত্য দেখাতে হাসিনা সরকার তখন নিহতদের পক্ষে কোনো মামলা নেয়নি; বরং ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর চালিয়েছে গ্রেফতার, থানায় থানায় মিথ্যা মামলা, গুমসহ নিবর্তনমূলক কর্মকাণ্ড। নিহতদের পরিবার মামলা করতে গেলে পুলিশ তখন মামলাগুলো গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে চব্বিশের ৫ আগস্ট হাসিনা ভারত পালিয়ে গেলে নিহতদের স্বজনরা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেন। ২০২১ সালে মোদির আগমন-বিরোধী আন্দোলনে নিহত কিশোরের পিতা ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’র সদস্য সচিব হিসেবে আখতার হোসেন গত বছর ৭ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগ দায়েরের পর আখতার তখন জানান, ২০২১ সালের ২৬ ও ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরে এলে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে ভারতের আগ্রাসনবিরোধী যে আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়, সে আন্দোলনে তৎকালীন সরকারের নির্দেশে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে আহত, শহীদ ও নিপীড়িতদের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তৎকালীন এমপি ওবায়দুল মুক্তাদিরসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

আখতার হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকায় আন্দোলনে অংশ সেয়া নিরস্ত্র মানুষদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সরকারের হিসেবেই ওই দিন ১৭ জন নিহত হয়েছিলেন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের পরবর্তীকালে ন্যায়বিচার ও চিকিৎসা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ নেয় হাসিনা সরকার। কোনো বিচার না করে উল্টো নিরীহ মানুষের একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার ও হয়রানি করে। প্রায় সাত হাজার মানুষকে আসামি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৪টির মতো মামলা করা হয়। এর মাধ্যমে সরকার সবাইকে সম্মিলিত উপায়ে শাস্তির ব্যবস্থা করে। তার এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ জানাতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা দিয়েছি।

তৎকালীন হাসিনা সরকারের হিসাব মতে, ২৬ মার্চ নিহতরা হলেনÑ মো. আশিক (২০), বাদল (২৮), কাউছার (৩০), নূরুল আমিন (২২), মো. আলম (৪০), সুজন (২০), হাফেজ মো. জোবায়ের (১৪) ও জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার ছাত্র মোহাম্মদ হোসাইন (২২)। এদের মধ্যে মোহাম্মদ হোসাইন কালিবাড়ি মোড় এবং বাকি ছয়জন কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের নন্দনপুরে নিহত হন। ২৮ মার্চ নিহতরা হলেনÑ সরাইল পাঠানপাড়া হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্র মো. আলামিন (১৯), লিটন (৩০), কামালউদ্দীন (৩২), তাবলিগ জামাতের কালন মিয়া (৪০) ও রাতিম (২২)। ২৬ মার্চ হাটহাজারীতে নিহতরা হলেনÑ হাটহাজারী মাদরাসার নাসির উল্লাহ (২২), রবিউল ইসলাম (২২) ও কাজী মিরাজুল ইসলাম (২২) এবং দর্জি দোকানি ওয়াহিদুল ইসলাম (১৮)।

বর্বরতম হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ দাখিলের পর আটা মাস হতে চলল। এখন অভিযোগের ওপর তদন্ত চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে সেটি বিচারার্থে ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হবে বলে জানায় প্রসিকিউশন ইউনিট। মোদিবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত গণহত্যার বিচারে প্রসিকিউশন অত্যন্ত আন্তরিক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতে হেফাজতের দাবিনামায় গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গ
এদিকে গত ৯ আগস্ট হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির, প্রবীণ আলেমে দ্বীন আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় হেফাজতের পক্ষে ৯ দফা দাবি পেশ করা হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এর মধ্যে রয়েছেÑ মহান আল্লাহ, রাসূল (সা.), পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা। কুরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে নৃশংস গণহত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের জড়িত, হুকুমের আসামি ও খুনিদের বিচার নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার কায়েম করা। মতবিনিময় সভার প্রধান মেহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেফাজতের দাবি প্রসঙ্গে বলেন, আমি একজন মুসলমান। বাংলাদেশের সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম। আমি মনেপ্রাণে সবসময়ই ইসলামের সপক্ষে। দোয়া চাই, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যাতে ঈমানের সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারি। দেশে আমাদের সরকার দ্বারা কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কিছুই করা তা কল্পনা বা ধারণারও বাইরে।