মোঃমনছুর আলম, জেলা প্রতিনিধি ভোলা : দীর্ঘদিন ধরে খাল খনন ও সংস্কারের অভাবে ভোলা সদর উপজেলায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে তীব্র সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উপজেলার ৪টি খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে, এর মধ্যে  বেশ কিছু জায়গায়  খাল খননের নানান অনিয়মের অভিযোগে  ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী
ভোলা পৌরসভাসহ রাজাপুর, ইলিশা, পশ্চিম ইলিশা, বাপ্তা, ধনিয়া, শিবপুর, আলীনগর, চরসামাইয়া, ভেলুমিয়া ও সংলগ্ন চরাঞ্চলের ৭৩টি খাল চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৩ হাজার ৮৫০ মিটার খাল কাজ শুরু করেছে সরকার  এর মধ্যে ২০টি খালকে অতি জরুরি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের আশঙ্কা, এসব খালে দ্রুত কাজ শুরু না হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া ৩৯টি খাল জরুরি
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
 খাল খনন প্রকল্প নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি বরাদ্দের অর্থের সঠিক ব্যবহার না করে অনেক ক্ষেত্রেই কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই কাগজে-কলমে প্রকল্প শেষ দেখানো হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ভোলা সদর উপজেলায় ৪টি খাল পূর্ণ খননের জন্য বরাদ্দ হয়েছে, তবে এই খাল খননে বড়ো ধরনের অনিয়ম হয়েছে,ইলিশা বাস স্যান্ড থেকে শুরু করে চৌদ্দ ঘর পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার খাল পূর্ণ খননের জন্য বরাদ্দ হয়েছে এককোটি আঠাশ লাখ আট সত্তুর হাজার পাঁচ শত সাইত্রিশ টাকা, ইলিশা বাস স্টান্ড থেকে চোদ্দ ঘর এই খালটির ভিতরে সবচাইতে বড়ো অনিয়ম হয়েছে, বাস্তবে কাজ না করলেও কাগজে কলমে করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে,  তবে এই অনিয়মের সাথে প্রশাসনও জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।
ভোলা জেলা প্রশাসক ডাঃ শামীম রহমান জানান,ভোলায় ৪টি খাল পূর্ণ খননের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে সরকার, কাজ সঠিক ভাবে হচ্ছে কিনা সেজন্য কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তার পরেও যদি কাজের অনিয়মের অভিযোগ পেলে  তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
“ভোলার কৃষিনির্ভর অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে খালগুলোর  এখন সময়ের দাবি। দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা কমবে, অন্যদিকে সেচ সুবিধা বাড়ার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনেও আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন।”