নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: সাগরকন্যা কুয়াকাটা সৈকতে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের তান্ডব ও ঝড়ো বাতাসের সাথে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পরায় সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে সৈকতের জিরো পয়েন্টে স্থাপিত ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সটি চরম ঝুঁকির মুখে পরেছে। পাশাপাশি সৈকতের বিভিন্ন স্থান হয়ে উঠেছে শ্রীহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল থেকে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। দিনভর দমকা বাতাসের সাথে একের পর এক বড় ঢেউ আছড়ে পরছে কুয়াকাটা সৈকতে। ফলে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারিকেল বাগান, ঝাউবন, জাতীয় উদ্যান, এলজিইডি গেস্ট হাউস, ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ও আবাসিক হোটেলসহ সৈকতের বিভিন্ন অংশ। ঝুঁকিতে রয়েছে মসজিদ, মন্দির, আবাসিক হোটেল, খাবারের রেস্তোরাঁ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা।

ভাঙন ঠেকাতে আগে স্থাপন করা জিওব্যাগের অনেকগুলো সাগরের প্রবল ঢেউয়ে সরে গিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পরেছে। কোথাও কোথাও জিওব্যাগ সরে যাওয়ায় সৈকতের ভাঙন আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

সী-বিচ ফটোগ্রাফার পরিচালক রেদওয়ানুল ইসলাম রাসেল বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক কুয়াকাটা সৈকতে ঘুরতে আসেন। কিন্তু জিওব্যাগ ও ভাঙনপ্রবণ এলাকায় চলাচলের কারণে পর্যটকদের বিড়ম্বনায় পরতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও জিওব্যাগের স্তুপ ও ভাঙনের কারণে সৈকতের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

পর্যটক এসএম মিজান বলেন, সৈকতে থাকা ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সটি এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ঢেউয়ের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে বক্সটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একইসাথে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে পর্যটকদের সতর্কতার সাথে সৈকতে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল হোসেন বলেন, বর্তমানে সাগর অনেকটা উত্তাল। ঢেউয়ের আঘাতে সৈকতের কিছু অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। শুধু জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে সৈকত রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ২০২৪ সালে প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে বিভিন্ন কারণে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। এ কারণে সৈকতের ভাঙনরোধে বিকল্প আরেকটি প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্নস্থানে ভাঙন ও ব্লক সরে যাওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসিন সাদেক বলেন, সৈকত ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।