নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা মডেল ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যর মৃত্যুর ঘটনায় থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ গৈলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর পূর্বে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে আত্মগোপনে থাকা ইউপি সদস্য মারুফ সেরনিয়াবাতকে ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত মারুফ সেরনিয়াবাত উপজেলার সেরাল গ্রামের মো. মজিবুর রহমান সেরনিয়াবাতের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শীলা আক্তার গত ২৫ জুলাই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

এ ঘটনায় তার (শীলা) বড় ভাই আলামিন হাওলাদার বাদি হয়েগিত ২৯ জুলাই আগৈলঝাড়া থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মৃতের স্বামী ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মৃত ইউপি সদস্য শীলা আক্তারের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২৫ জুলাই বিকেলে উপজেলার সেরাল গ্রামের রিপন সরদারের ভাড়া বাসায় পারিবারিক কলহের জেরধরে ইউপি সদস্য শীলা আক্তারকে তার স্বামী ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত মারধর করেন। পরবর্তীতে ইউপি সদস্য শীলা আক্তারের ঝুলন্ত লাশ দেখে স্থানীয়রা তাকে (শীলা) উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে (শীলা) মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, তিনটি কন্যা সন্তানের জননী শীলা আক্তার গৈলা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য ছিলেন। তার স্বামী সেরাল গ্রামের শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিযয়াবাত একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

সূত্রমতে, শীলা আক্তার ছিলেন মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী। মৃত শীলা আক্তারের বাবা সেরাল গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদার জানিয়েছেন, গত একবছর আগে মারুফ সেরনিয়াবাত তার মেয়ে শীলা আক্তারকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তারা সেরাল গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় থাকতো। কারণে অকারণে মারুফ সেরনিয়াবাত প্রায়ই তার মেয়ে শীলাকে মারধর করতো।

আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পলাতক আসামি ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতকে ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাকে আগৈলঝাড়া থানায় নিয়ে আসার পর বুধবার দুপুরে বরিশাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।