নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল সদর উপজেলা অধীনস্থ ৯ নম্বর টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ও যুবদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান রাসেল অভিযোগ করেছেন, গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ বিকেল ৫টার দিকে লাহারহাটে তাঁর নিজ ভবনে থাকা ২ নম্বর নরকাঠী বিএনপির কার্যালয় ও সংলগ্ন বেডরুমে হামলার ঘটনা ঘটে।
রাসেলের দাবি, ওই সময় তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। চাঁদপুরার রাফি ও ইজারাদার সাইফুলের নেতৃত্বে সরোয়ার, আলামিন, ইউনুস, রায়হান, পরশ, সাইদুলসহ আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন লোক সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁকে কার্যালয় ও বেডরুম থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি সময়ে বন্দর থানার ওসিসহ পুলিশের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন, যারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।
রাসেলের অভিযোগ, ঘটনার ৫ থেকে ৭ মিনিট পর একই পক্ষ বাজারে বাহাউদ্দিনের দোকানে হামলা চালায়। এ সময় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ধাওয়া করলে কয়েকজনকে আটক করে মারধর করা হয় এবং অন্যরা পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ঘটনার দুই দিন পর বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে চাঁদা দাবির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তাঁর দাবি, ইজারাদার সাইফুলের নেতৃত্বে নির্ধারিত অর্থের বাইরে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করায় তাঁর ওপর ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং এর জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রাসেল তাঁর সিনিয়র নেতাদের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তদন্তে তিনি অপরাধী প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আর যদি তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকেন, তাহলে তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা ও তাঁকে হত্যার হুমকি বা প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তিনি আরও বলেন, “আমি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছি। চিকিৎসা শেষে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা গ্রহণ করব এবং সুষ্ঠু বিচারের জন্য যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেব।”
তিনি আরও বলেন, “আমি অপরাধী হলে সাংগঠনিক বিচার করবেন। আর আমি অপরাধী না হলে কেন আমাকে হত্যা করতে চাওয়া হলো—এরও সুষ্ঠু বিচার চাই।” তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।