নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: দুর্ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় গ্রিনলাইন পরিবহনের পাঁচটি বাস আটকে রেখে তিন দফা দাবি আদায় করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
গ্রিনলাইন পরিবহন কোম্পানির লিখিত অঙ্গীকার অনুযায়ী পুনরায় তাদের বাস দুর্ঘটনা ঘটলে বরিশাল-ঢাকা রুটে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ করে দিবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থাও করবে পরিবহন কোম্পানি।
এর আগে তিন সহপাঠী দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার প্রতিবাদে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে চলাচলকারী গ্রিন লাইন পরিবহন কোম্পানির পাঁচটি বাস আটকে রাখে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রসায়ন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী ইমরান খান, আশরাফ রাকিব আলম একটি ভ্যানযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন।
পথিমধ্যে কুয়াকাটাগামী গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি বাস কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া ব্রিজের ঢালে ওভারটেক করার সময় ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ববির তিন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। ঘটনার সময় বাসের নিচে চাপা পড়ার আশঙ্কায় ইমরান ভ্যান থেকে লাফ দেন।
ঘটনার পর দুর্ঘটনার শিক্ষার্থীরা বাস কর্তৃপক্ষকে ক্যাম্পাসে এসে বিষয়টি সমাধানের দাবি জানান। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে না নেওয়ায় সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাস সংলগ্ন সড়ক থেকে পাঁচটি গ্রিন লাইন বাস ক্যাম্পাসে নিয়ে আটকে রাখে শিক্ষার্থীরা।
এ সময় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে অভিযুক্ত চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে বহিষ্কার, চালকের লাইসেন্স বাতিল এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।
পরে রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত গ্রিনলাইন বাস কোম্পানির ম্যানেজার (অপারেশন), শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বৈঠকে বসেন। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার বিষয়ে বাস কোম্পানির প্রতিনিধি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন। তারা অঙ্গীকার করেন পুনরায় দুর্ঘটনা ঘটলে বরিশাল-ঢাকা রুটে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।
গ্রিন লাইন পরিবহন বরিশাল বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. হাসান সরদার বাদশা বলেন, মুচলেকা এবং চিকিৎসা খরচ বাবদ ৮০ হাজার টাকা শিক্ষার্থীদের দিয়েছি। লিখিত অঙ্গীকার অনুযায়ী, পরবর্তীতে আমাদের পরিবহন কোম্পানির বাস দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট বাসের রুটপারমিট বাতিল এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালক-সুপারভাইজারকে চাকরিচ্যুত করতে হবে। আমরা তাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে। পরিবহন কোম্পানি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছে। এ কারণে রাতেই বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর রোববার দপদপিয়া ব্রিজে শিক্ষার্থীবাহী একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় ডলফিন পরিবহন কোম্পানির একটি বাস। পরে শিক্ষার্থীরা ওই বাসটি আটকে রেখে ক্ষতিপূরণ আদায় করে।
এছাড়া সম্প্রতি দপদপিয়া ব্রিজে বিআরটিসি বাসের ধাক্কায় থ্রি-হুইলারের যাত্রী ববির বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত নিহত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে দাবি আদায় করেছিলেন।